
মালা ঘোষ,বর্ধমান: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এর অন্যতম হল মাঘের শুক্লা পঞ্চমীর সরস্বতী পুজো। পৌষ শেষের আগেই বর্ধমান শহরের পাল পাড়ায় জোর কদমে শুরু হয়ে গেছে দেবী মূর্তি তৈরীর কাজ। বিসি রোডের একটি কারখানায় দেখা গেল ছোট বড় নানা মাপের মাটির সরস্বতী মূর্তি সারে সারে দাঁড় করানো। কোনওটায় বা রং পড়েছে ,আবার কোনওটার সাজগোজও রেডি। আগামী ২২ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো। মৃৎশিল্পীরা জানালেন, বেশ কিছু মূর্তি বিক্রির জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুত হয়ে গেছে। বাকিগুলোর কাজও দ্রুত চলছে । ১৯ জানুয়ারীর মধ্যেই সব প্রতিমা মণ্ডপে চলে যাওয়ার জন্য তৈরী হয়ে যাবে।
তবে এবছর বিদ্যার দেবীর আরাধনা অন্যান্য বছরের তুলনায় যে কিছুটা আক্রা হতে চলেছে তার আগাম আভাস পাওয়া গেল মৃৎশিল্পীদের কথাতেই।
শহরের খালুইবিল মাঠের পালপাড়ার মৃৎশিল্পী গোপাল পাল জানালেন, গত ৪৫ বছর ধরে মূর্তি তৈরী করছি। প্রতিমা তৈরীর খরচ প্রতিবারই একটু-আধটু বাড়ে। তবে এবার জিএসটির দাপটে সেই খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। প্রতিমার জন্য রঙের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গয়না,কাপড় এমনকি চুলের দামও। এসবের ওপর বসেছে জিএসটি । ফলে সব মাপের প্রতিমার দামও এবার বেশ খানিকটা বেড়েছে। ছোট ছোট প্রতিমার দাম মোটামুটি ১০০ থেকে ৩০০ টাকার হেরফের হয়েছে।চার-সাড়ে চার ফুটের মূর্তি দাম যেখানে আগের বছর হাজার টাকা ছিল,এবছর সেটাই বারোশো-তেরোশো টাকা থেকে শুরু।

গোপাল বাবু জানালেন,পুজোর সংখ্যা বেড়েছে। তবে গুণগতমান অনেক কমে গেছে। বাজারে অনেকেই ছোট বড় প্রতিমা নিয়ে বিক্রির জন্য আসছে। ভালো প্রতিমার খোঁজ যারা করেন ,তাঁরা আমাদের মত পুরনো কারখানায় আসেন। পুজোর দিনেও বেলা পর্যন্ত আমাদের প্রতিমা বিক্রি হয়। সে সময় প্রতিমার সংখ্যা কম থাকায় একটু চড়া দামেই কিনতে বাধ্য হন ক্রেতারা। শিল্পী জানালেন,ইদানীং প্রতিমার অর্ডার কম আসে। গ্রাম ও শহরের পুজো উদ্যোক্তারা সরাসরি ঠাকুর নিয়ে যেতে পছন্দ করেন। তাই মূর্তির গুণগত মান নিয়ে আজকাল তেমন নতুন ভাবনার দরকার হয়না।
স্কুলের পাশাপাশি বিদ্যার দেবীর আরাধনা অনেক বাড়িতেও হয়ে থাকে। তবে স্কুল হোক বা বাড়ী,দেরী নেই বাণী-বন্দনার প্রস্তুতি নিতে। মূর্তির পাশাপাশি এবছর ফল ও পুজোর অন্যান্য উপকরণের দামও যে চড়া হবে সেই আশঙ্কাই করছে উদ্যোক্তারা। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা মৃৎশিল্পীদের। একই সাথে দেবীর আগমনের অধীর অপেক্ষায় পড়ুয়ারাও। বাকিদের জন্য অবশ্য হাতে রয়েছে রয়ে-বসে প্রস্তুতি নেবার কিছুটা সময়।
ছবি - সুরজ প্রসাদ
