Headlines
Loading...
পূর্ব বর্ধমানের পিকনিক স্পটগুলিতে পুলিশি নিরাপত্তার দাবি পর্যটকদের।

পূর্ব বর্ধমানের পিকনিক স্পটগুলিতে পুলিশি নিরাপত্তার দাবি পর্যটকদের।


ফোকাস বেঙ্গল নিউজ ডেস্কঃ শীত পড়তেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে পিকনিক। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ছোট বড় নানা পিকনিক স্পট গুলোতে ভিড় বাড়ছে ক্রমশই। ছেলে-মেয়ে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে বাড়ির লোকজন যেমন বেরিয়ে পড়ছেন,তেমনি দলবল নিয়ে বেরিয়ে পড়ছে বন্ধুবান্ধবেরাও।  শীত উপভোগের এ এক অনবদ্য উপায়। সারা বছরের একটানা কাজের মধ্যে প্রকৃতির কোলে অন্ততঃ একটা দিন কাটানোর উপকারিতার কথা তো বলে থাকেন চিকিৎসকেরাও। 

পূর্ব বর্ধমানের এমন অনেক পিকনিক স্পট আছে, বনভোজনের কথা উঠলেই যেগুলির নাম সবার প্রথমেই মনে পড়ে। উল্লেখযোগ্য সেসব জায়গাগুলির মধ্যে রয়েছে বর্ধমানে দামোদরের তীরে সদরঘাট ,পাল্লা-রোড, গুসকরার ভালকি মাচানের জঙ্গল ,ওড়গ্রাম ফরেস্ট , খড়ি নদির ধারে হলদি ফরেস্ট ,অজয়ের ধারে কাঁকসার দেউল সংলগ্ন জঙ্গল মহল,দেওয়ানদিঘি থানার অন্তৰ্গত কুড়মুনের আহার-বিহার জলাশয় সংলগ্ন উদ্যান প্রভৃতি। এগুলি মূলত জঙ্গল এলাকা হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষের কাছে বনভোজনের জন্য এইসব জায়গা অতি পছন্দের।অনেকে আবার পছন্দ করেন পূর্বস্থলীর চুপী পাখিরালয়ে যেতে। এখানকার বিশাল ঝিলে শীতকালে হাজারো পরিযায়ী পাখিদের দেখার অভিজ্ঞতা পক্ষীপ্রেমীরা মনের মধ্যে সংগ্রহ করে রাখতে চান। ফলে জেলার পিকনিক স্পটগুলি মানুষের ভিড়ে শীতের কটা দিন যেন গম গম করে। .

কিন্তু এত মানুষের আনন্দ বজায় রাখার জন্য জেলার পুলিশ ও প্রশাসন কতটা তৈরী? 
অভিযোগ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কোনো উদ্যোগ ঐসব পিকনিক স্পট গুলোতে দেখা যায় না ,যাতে বেড়াতে আসা মানুষেরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সময়টা নিশ্চিন্তে কাটাতে পারেন। পর্যটকেরা জানাচ্ছেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়ের হাত ধরে বেড়াতে আসার সময় এই ভাবনাটাই সবথেকে বেশি হয়- যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে অথবা বাড়ির কিশোরীটির সঙ্গে যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। 
পর্যটকদের একাংশের অভিযোগ, আজকাল বেশিরভাগ পিকনিক স্পটই মদ্যপায়ীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে গেছে। আরও অভিযোগ,এই সমস্ত স্পটে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানার কথা উল্লেখ করা থাকলেও,অনেকেই সেই সবের তোয়াক্কা করে না। ফলে  আজকাল বেড়েছে ইভটিজিং, এমনকি মারপিট-খুনোখুনির ঘটনাও আর বিরল নয়। মদ্যপ অবস্থায় নদী বা বড় জলাশয়ে নেমে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও আজকাল প্রায়ই ঘটে। বিশেষত নদীর চর  বা জঙ্গলমহলের মত এলাকাগুলিতে পুলিশ-প্রশাসনের নজরদারি থাকা খুবই প্রয়োজন। অন্তত সিভিক ভলেন্টিয়ারের ব্যবস্থা থাকাটাও জরুরি বলেই জানিয়েছেন পিকনিক করতে আসা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা।   কারণ এটা নিরাপত্তার প্রশ্ন। পাশাপাশি এই সমস্ত স্থানে নেই প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাবস্থাও। হটাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে চরম সমস্যায় পড়তে হয় আনন্দ করতে আসা সেইসব পিকনিক পার্টির সদস্যদের।  

তবে রাজ্যের অন্যান্য জেলায় ইতিমধ্যে পিকনিকে আসা লোকজনদের নিরাপত্তার কথা ভেবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জেলার সব জনপ্রিয় পিকনিক স্পটে খোলা হয়েছে সহায়তা কেন্দ্র। বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও। দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে বালুরঘাটের ৬টি পিকনিক স্পটে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। টহল দিচ্ছে সাদা পোশাকের পুলিশ। এছাড়া বাকি পিকনিক স্পটগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ডিসেম্বর মাস থেকেই শুরু হয়েছে এই নজরদারি। গোটা জানুয়ারি মাস জুড়েই থাকবে এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় খুশী হওয়ার পাশাপাশি বেশ নিশ্চিন্ত বোধ করছেন সেখানকার পর্যটকেরাও। 
তাহলে এই ব্যবস্থা পূর্ব বর্ধমানে নেই কেন ?

এব্যাপারে পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিস পুষ্পা জানিয়েছেন, জেলার সমস্ত পিকনিক স্পটে পুলিশের নজরদারি করা সম্ভব নয়। তবে যেসব জায়গায় মানুষের ভিড় খুব বেশি থাকে সেই সব স্পটে পুলিশের নজরদারি অবশ্যই  রয়েছে। পিকনিক স্পটগুলিতে হেল্প ডেস্ক চালুর প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান,এ ব্যাপারে এখনই কোনো পরিকল্পনা নেই জেলা পুলিশের। 
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আর যাই বলা হোক না কেন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে যে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের বাড়তি কোনো তৎপরতা নেই সে অভিযোগ করছেন খোদ পর্যটকেরাই। তাহলে কি এই জেলায় ভ্রমণ পিপাসু মানুষকে বেরোতে হবে নিজস্ব নিরাপত্তার জোরেই ? উঠছে প্রশ্ন।  








(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});