Headlines
Loading...
গলসীর গ্রামে অবৈধভাবে দামোদর থেকে বালি তোলা বন্ধে তদন্তের নির্দেশ কালীঘাটের।

গলসীর গ্রামে অবৈধভাবে দামোদর থেকে বালি তোলা বন্ধে তদন্তের নির্দেশ কালীঘাটের।


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান:
 বর্ধমানের গলসী ২ ব্লকের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে দামোদর থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার ঘটনায় গ্রামবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিলো  মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর।পাশাপাশি বিষয়টি সম্পর্কে গ্রামবাসীদের জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারকে জানানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ পাওয়ার পরই মঙ্গলবার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দারা জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে এব্যাপারে ডেপুটেশন দেন। 

গ্রামবাসীদের পক্ষে সাধন বালো,অর্চনা ভক্ত, পরিমল সরকার, সুমনা বালো,গোপাল বিশ্বাস প্রমুখরা অভিযোগ করেন, বিমল ভক্ত এবং নারায়ণ নন্দী নামে দুই ব্যক্তি বিএলআরও-র অনুমোদন নিয়ে 
নেট মেসিন এবং জেসিবি মেশিন দিয়ে দামোদরের চর থেকে অবৈধভাবে শুধু বালিই তুলছে না, গ্রামের মধ্যে দিয়ে এবং ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকা  তিন ফসলি জমির ওপর দিয়ে সেই বালি ট্রাক্টার ও লরি করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০০ ট্রাক্টার ও লরি বালি নিয়ে যাতায়াত করায় ঐসব কৃষি জমি ধ্বংস হতে বসেছে।


গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এর আগে বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় গোহগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত, গলসী ২ বিডিও এবং গলসী থানাকে তারা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জানাতে সম্প্রতি কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে যান। আর সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর অফিসার ইন স্পেশাল ডিউটি দিব্যজ্যোতি দাস জেলা পুলিশ সুপার কুণাল আগরওয়ালকে এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দেন। দপ্তরের নির্দেশ মত মঙ্গলবার গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন। 

এ ব্যাপারে জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, গ্রামবাসীদের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। গলসী বিএলআরওকে ঘাটটি  বৈধ না অবৈধ তা তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।অবৈধ হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাছাড়া গ্রীণ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুসারে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে বালি তোলা যাবেনা। সবকিছু খতিয়ে দেখতে ভূমিদপ্তর ও পুলিশকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জেলাশাসক এদিন জানান,ওই ঘাটের সিসিটিভির নজরদারি ২৪ঘন্টা চালু আছে কিনা তাও জানানোর জন্য বলা হয়েছে। 
গ্রামবাসীরা এদিন জানান,১৯৭৮ সালের বন্যার পর সরকারের ১০০ দিনের কাজে নদীর পাড়কে বোল্ডার ও বালির বস্তা দিয়ে বাঁধিয়ে বন্যা প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।কিন্তু অবৈধ ভাবে দিনের পর দিন বালি কাটার ফলে সেই বাঁধ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এমনকি নদীর গতিপথও ঘুরে গেছে। তাদের অভিযোগ,প্রায়শই লরি অথবা ট্রাক্টার চাপা পড়ে এই এলাকায় গবাদি পশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});