Headlines
Loading...

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কাটোয়া : ইতিহাস আজও বর্তমান। বিজ্ঞানের অগ্রগতির যুগে তথ্য প্রযুক্তি ও গল্প মাধ্যমের নানা দিক খুলছে।প্রচার মাধ্যমেরও বিপুল উন্নতি ঘটেছে। কিন্তু তবু আজও এই আধুনিক সমাজে কোথাও কোথাও সেকালের প্রযুক্তিকেই প্রয়োজনে কাজে লাগিয়ে চলেছে মানুষ। প্রশাসনের তরফে এখনও আমজনতার কাছে কোনও বার্তা পাঠানোর জন্য ঢ্যাঁড়া পেটানো হয়।সেই রাজা-মহারাজদের আমল থেকে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে বার্তা দেওয়ার রীতি এই একবিংশ শতাব্দীতেও রয়ে গিয়েছে।গ্রাম বাংলায় এই ছবি আজও দেখা যায়। সরকারি ঘোষণা,আদালতের নির্দেশ কিংবা জনসচেতনতামূলক প্রচার সবই ঢ্যাঁড়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে আজও।বংশ পরম্পরায় বাজনাদাররা এই কাজ করে চলেছেন। 

পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সংসদে সরকারি কাজের জন্য আজও প্রচারের মাধ্যম এই ঢ্যাঁড়া। গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে জোর প্রচার চালান বাদক পূর্ণ দাস। হঠাৎ ঢ্যাঁড়ার শব্দ শুনে পথচলতি মানুষজন তাঁকে ঘিরে ধরেন। তখন ঢ্যাঁড়া বাদক পূর্ণ দাস পঞ্চায়েতের লিখে দেওয়া নির্দেশ চিৎকার করে পাঠ করেন। পাঠ শেষে আবার ঢেঁড়া বাজানো শুরু করেন।

বছর ষাটের পূর্ণ দাসবাবু বললেন,'অনেক বছর ধরে ঢ্যাঁডা পিটিয়ে প্রচারের কাজ করছি।জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশাপাশি পাড়ার পুজো কমিটির বৈঠক সহ নানান সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রচারের জন্য বরাত পাই।' তিনি বলেন,বংশপরম্পরায় তাঁর দাদু ভূপতি দাস,বাবা ফণি দাস পঞ্চায়েতের ঢ্যাঁড়া বাজিয়েছেন।তিনিও সেই ধারা বজায় রেখেছেন।
জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সঞ্চালক ও সদস্য তৃণমূলের ভাস্কর চ্যাটার্জ্জী বলেন,'প্রচার মাধ্যমের এখন অনেক উন্নতি হয়েছে।কিন্তু মানুষের বাড়ি বাড়ি প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে দিতে আজও ঢ্যাঁড়া পেটানোর বিকল্প রয়েছে বলে মনে হয় না। ঢ্যাঁড়ার শব্দ মানুষকে সহজে আকৃষ্ট করে।'

জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ও বর্তমানে পঞ্চায়েতের শিল্প পরিকাঠামোর সঞ্চালক ইসমাইল দফাদার বলেন,'বর্তমানে আধুনিক প্রচারের যুগে আমরা সাধারণ বিষয় নিয়ে মাইকিং করে থাকি।কিন্তু মানুষ মাইকিংকে সমভাবে গুরত্ব দেয় না বলে ঢ্যাডার মাধ্যমে প্রচার করলে পঞ্চায়েতের কাজ ভাল হয়। আর এই বাদ্য যন্ত্রের আওয়াজ শব্দ দূষণের মাত্রাও কম রাখে।'
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});