
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান:স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তাই শেষমেষ বাধ্য হয়ে নিজেরাই আলোচনা করে তৈরী করে ফেললো গ্রামের একমাত্র শ্মশান যাওয়ার জন্য ১কিলোমিটার রাস্তা। এতদিন শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় জমির আলপথ দিয়েই কষ্ট করে শ্মশান যেতে হতো গ্রামবাসীদের। সেই আলপথকেই গ্রামবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগে পরিণত করা হলো ৮ফুট চওড়া মাটির রাস্তায়।
পূর্ব বর্ধমান জেলার বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের চান্ডুল গ্রামে প্রায় ৪০০-রও বেশী পরিবারের বাস।আর এই গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য গ্রাম থেকে প্রায় ১ কিমিরও বেশি দূরত্বে রয়েছে তপশীলি জাতিদের জন্য একটি শ্মশান। কিন্তু এতদিন শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে একমাত্র রাস্তা বলতে ছিল জমির আলপথ।গ্রামবাসী তারাপদ মাঝি, ভোদা পড়ুই, ফণেশ দলুই প্রমুখরা জানিয়েছেন, সমস্যার কথা স্থানীয় পঞ্চায়েতে বারবার জানানো হয়েছে,কিন্তু সুরাহা কিছু হয়নি। তাই নিজেদের অসুবিধার কথা ভেবে গ্রামবাসীরা আলোচনায় বসেন। আলোচনায় ঠিক হয় শ্মশান যাওয়ার রাস্তা তৈরী করা হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় যেটুকু জমি লাগবে তা গ্রামবাসীরাই দান করবেন। আর এরপরই শনিবার গ্রামবাসীরা নিজেরাই আলপথের রাস্তাকে প্রসারিত করে প্রায় ৮ ফুট চওড়া মাটির রাস্তা তৈরী করলেন।
বর্ধমান ১নং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা চান্ডুল গ্রামের বাসিন্দা মিহির দত্ত জানিয়েছেন, যেভাবে গ্রামবাসীরা উন্নয়নের কাজে নিজেরাই এগিয়ে এসেছেন তা অভাবনীয়।
বর্ধমান উত্তরের তৃণমুল বিধায়ক নিশীথ মালিক জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের আবেদনে বৈতরণী প্রকল্পে চান্ডুল গ্রামের শ্মশান তৈরী করতে ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বিধায়ক তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরা এই কাজে এগিয়ে আসায় নজীর সৃষ্টি হয়েছে।
বর্ধমান ১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ফাল্গুনী দাস রজক জানিয়েছেন, বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০০ দিনের কাজের কোটা প্রায় শেষ। তাই অসুবিধা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আগামী আর্থিক বছরেই ওই মাটির রাস্তাকে কংক্রিটের রাস্তা করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
