
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ ফের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পকেটমার তথা ছিনতাইবাজদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ রোগীর পরিবারের লোকজন। শুক্রবার সকালে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা করাতে আসা পরপর ৩ মহিলার ব্যাগ সহ টাকা নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতিরা। মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যে পরপর ৩টি ঘটনা ঘটলেও এখনও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,এদিন সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ পানাগড়ের এক বাসিন্দা হাসপাতালের আউটডোরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় পিছন থেকে তাঁর হাতে থাকে ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা। তাঁর ব্যাগে ৩ হাজার টাকা ছিল বলে তিনি দাবী করেছেন। এব্যাপারে তিনি হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে অভিযোগও করেছেন। এদিকে পানাগড়ের ওই বাসিন্দার ঘটনার পর হাটগোবিন্দপুরের বাসিন্দা চুয়ারাণী দাসের ব্যাগ ছিনতাই হয়। তাঁর ব্যাগেও এক হাজার টাকা ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এরপরই তৃতীয় ঘটনা ঘটে মেমারীর বাসিন্দা রত্না বিশ্বাস নামে এক মহিলার সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তাঁর ব্যাগ ছিনতাই করে পালায় দুষ্কৃতিরা। তাঁর ব্যাগে ৩ হাজার টাকা ছাড়াও প্যান কার্ড, আধার কার্ড সবই খোওয়া গেছে। এদিকে, পরপর এই ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাসপাতাল জুড়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভোটের কারণে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প থেকে পুলিশ কর্মীদের তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২জন জুনিয়র হোমগার্ড সহ ৬জন সিভিক ভলেণ্টিয়ার রয়েছেন। তাঁদের পক্ষে গোটা হাসপাতাল দেখা সম্ভব নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের কর্মীরা। এমনকি পুলিশ ক্যাম্প থেকে রহস্যজনকভাবেই একজন মহিলা সিভিক ভলেণ্টিয়ারকে তুলে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পরপর ৩টি ঘটনার ক্ষেত্রেই মহিলাদের লাইনে কোনো মহিলা ছিনতাইকারীই এই ঘটনায় দায়ী বলে মনে করছেন হাসপাতাল কর্মীরা। যদিও এব্যাপারে হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডা. অমিতাভ সাহা জানিয়েছেন,গোটা বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিনই হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে, মাইকিং করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, মানুষ সচেতন না হলে এই ঘটনা বন্ধ হবে না।
