
ফোকাস বেঙ্গল ওয়েব ডেস্ক: ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর রাত্রি ৮টা নাগাদ বর্তমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নোটবাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। দেখতে দেখতে প্রায় ১ বছর ৪ মাস কেটে গেল। কালো টাকা উদ্ধার, জাল টাকার হাত থেকে রেহাই, ইত্যাদি বিষয়ে নানা প্রশ্নের জবাব কিন্তু আজও ১২৫ কোটি ভারতবাসীর কাছে পরিষ্কার নয়।
এদিকে নোট বন্দীর রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতে ফের বাজারে জাল টাকা চলে আসায় রীতিমতো মাথায় হাত পড়েছে আমজনতার। কার্যত দেশের নিরাপত্তা ব্যাবস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ৫০০ আর ২০০০হাজার টাকার জাল নোট ছড়িয়ে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাল নোট কারবারিরা। আশ্চর্যজনক ভাবে এবার জাল নোট কারবারিরা অনেক ভেবে চিনতে প্রায় হুবহু নোট জাল করে ছড়িয়ে দেওয়ায় ঘোর বিপাকে পড়েছেন ব্যাবসায়ীরা। সহজে তারা বুঝে উঠতে পারছেন না কোনটা জাল আর কোনটা আসল। সরকারও বসে নেই। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি থেকে ইতিমধ্যেই জাল নোট সহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে একাধিক দুষ্কৃতীদের। এমনকি আন্তঃদেশীয় জালনোট পাচারকারী কিংপিনকেও ফাঁদ পেতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবুও ঠেকান যাচ্ছে না জাল নোটের কারবার।
আর স্বাভাবিকভাবেই দেশের আমজনতাকে রাতারাতি নোটবন্দীর কালো অমাবস্যায় ঠেলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার যে প্রয়াস,আজ তা ঘোর সংকটে এবং সন্দেহের মুখে বলেই মনে করছেন দেশের অধিকাংশ মানুষ।
উল্লেখ্য,নোটবাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর থেকে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিন, পুর্ব থেকে পশ্চিম বিভিন্ন রাজনৌতিক মহল থেকে সমালোচনা করা হয়েছে এই সিদ্ধান্তের। নোটবন্দি নিয়ে সরব হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি নোট বাতিলের ১বছর পূর্তিতে ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর গোটা রাজ্য জুড়ে নোটবন্দির কালা দিবস পালন করেছিলেন। নোটবন্দির এতদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও প্রধামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশবাসী আজও জাল টাকার সমস্যা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় জাল নোটের চক্করে প্রতারিত হতে হচ্ছে ব্যাবসায়ীদের।এই প্রতারণা থেকে কবে মুক্তি মিলবে আমজনতার সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
