
পল মৈত্র,দক্ষিণ দিনাজপুরঃ ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যক্ষেত্র এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হিসেবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে এই সীমান্ত দিয়েই চলে বৈধভাবে মানুষ পারাপার। কিন্তু এরপরও এই এলাকা দিয়ে হয় না ইলিশের আমদানি। সুস্বাদু বাংলার ইলিশ খেতে দক্ষিণ দিনাজপুরবাসির তাই আজও ভরসা বেনাপোল সীমান্তই। বিশেষ সরকারি পরিকাঠামোর অভাবেই হিলি দিয়ে বাংলার ইলিশ আসে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট অ্যাসোসিয়েশানের কর্মকর্তারা। অবশেষে হিলি স্থলবাণিজ্য বর্ডার দিয়েই ইলিশ আমদানি করবার দাবি তুলেছেন মাছ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দক্ষিণ দিনাজপুরবাসী।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তিনদিক ঘেরা ২৫২ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। জেলার মধ্যে হিলি একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আমদানি ও রপ্তানি ব্যবসার ক্ষেত্রে। হিলিতে থাকা স্থলবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক পণ্য ব্যবসার পাশাপাশি চলে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ। সেখানে থাকা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে এক দেশের মানুষ বৈধভাবে অন্যদেশে যাতায়াত করে থাকে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারত থেকে প্রতিদিন ২০০-২৫০ লরি বোঝাই পেঁয়াজ, রসুন, লঙ্কা, ফলমূল, পাথর, অন্যান্য সামগ্রী এবং কাঁচামালের পাশাপাশি চিনি, জিরা, ডাল, পোশাক, সহ অসংখ্য সামগ্রী যায় বাংলাদেশে। আবার বাংলাদেশ থেকে চিটা গুড় ও সামান্য কিছু সামগ্রী এদেশে আমদানি করা হয়ে থাকে। এলাকার এই বাণিজ্য থেকে ভারত সরকারের শুল্ক আদায় হয় মাসে প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকা। তবে হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ আমদানির চেষ্টা চালিয়েও লাভ হয়নি। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার সেই ব্যাপারে সিলমোহর দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আমদানি হওয়া ইলিশ মাছ আনতে অধিক ব্যয় হয় দক্ষিণ দিনাজপুরের মৎস্য ব্যবসায়ীদের। ফলে লাভ রেখে বাংলাদেশের ওই মাছ বাজারে ছাড়তে হয় তুলনামূলক চড়াদামে। স্বাভাবিকভাবেই ইলিশের স্বাদ নেওয়া সাধ্যের বাইরে চলে যায় সাধারণ মানুষের।
এই বিষয়ে হিলি এক্সপোর্ট অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য অশোক আগরওয়াল জানান, এপারে হিলি চেক পোস্টের কাছে মাছ পরীক্ষার ল্যাবরেটরি প্রয়োজন। ফাইটোস্যানেটারি নামে মাছ পরীক্ষার এক বিশেষ ল্যাবরেটরি কেন্দ্রীয় সরকারকে গড়ে তুলতে হয়। পাশাপাশি ইলিশ আমদানিকারীদের অনুমতি লাগবে কেন্দ্রের।
জেলার তিনদিকে ঘেরা রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার। অথচ এখানকার মানুষের কাছে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ দুর্লভ। এরজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সদর্থক ভূমিকা নেওয়া উচিত। কারণ অন্য সামগ্রী আমদানি ও রপ্তানি করে সরকারের মাসে কয়েক কোটি টাকা শুল্ক আদায় হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে ইলিশ আমদানির পরিকাঠামো গড়ে ব্যবসার অনুমতি দিলে আরও কয়েক কোটি টাকা মাসে বাড়তি আয় হত। অশোকবাবু আরও জানান, হিলি দিয়ে ইলিশ আমদানি করতে বারবার আবেদন জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দিষ্ট বিভাগে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি বলে অভিযোগ।
