ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বর্ধমানের মাটি উৎসবে প্রদর্শিত আর্সেনিকের প্রভাব মুক্ত 'মুক্তশ্রী' ধান এখন বাংলার চাষীদের কাছে চরম আগ্রহের বিষয়। মাটি উৎসব চলাকালীন পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ আশেপাশের জেলাগুলি থেকেও চাষীরা এই ধান সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে মেলায় আসছেন। সেখানে চুঁচুড়া ধান্য গবেষণা কেন্দ্রের স্টলে এই ধান প্রদর্শিত হয়েছে। গবেষণা কেন্দ্রের যুগ্ম কৃষি অধিকর্তা (ধান্য উন্নয়ন) ড. বিজন অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যের আর্সেনিক কবলিত এলাকায় কি ধরণের ধান চাষ করা যায় এবং সেই ধানে কত কম আর্সেনিকের প্রভাব রয়েছে সেই বিষয়ে প্রায় ৬০০ প্রজাতির ধান নিয়ে লক্ষ্নৌ-র ন্যাশনাল বোটানিক্যাল রিসার্চ ইনষ্টিটিউট এবং কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক এণ্ড ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল রিসার্চ কেন্দ্রে গবেষণা চালানো হয়। ২০০৬ সাল থেকে একটানা গবেষণা চালিয়ে ২০১২ সালে এ বিষয়ে সাফল্যের মুখ দেখা যায়। আর্সেনিকের প্রভাব মুক্ত ধানের সন্ধান পান গবেষকরা। ২০১৩ সালে কলকাতার একটি জাতীয় সেমিনারে এই ধানের প্রদর্শন করা হয়। অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এই ধান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোচরে আনেন তাঁর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার। আর্সেনিকের প্রভাব মুক্ত হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী ধানের নাম দেন 'মুক্তশ্রী'।
বিজনবাবুর বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নতফলনশীল সুগন্ধী মুক্তশ্রী ধান চাষে খরচ হয় মিনিকিট বা শতাব্দী চাষের মতই। এর মেয়াদ ১২৫-১৩০ দিন। গড় ফলন আমনে ৪.১৭টন প্রতি হেক্টর এবং বোরো চাষে ৫.২৪ টন প্রতি হেক্টরে। চাল সরু, সুস্বাদু, এবং ধানের গোছে পুষ্ট দানার সংখ্যাও বেশি। এরাজ্যের গঙ্গাবিধৌত উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর মত আর্সেনিক কবলিত এলাকায় এই মুক্তশ্রী ধানের চাষ সব দিক দিয়েই লাভজনক। তবে এই ধানের চাষ যে কোনও এলাকাতেই করা যায়।
বিজনবাবু জানিয়েছেন, কেন্দ্র সরকারের কাছে আর্সেনিক মুক্ত মুক্তশ্রী ধান অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁর মতে এই অনুমোদন মিলে গেলে বিশ্বের বাজারে মুক্তশ্রী ধান ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগবেনা। পাশাপাশি সব দিক দিয়ে কার্যকরী এই ধানের জন্য বীজ উৎপাদন ও সরবরাহকারীরাও বীজ সংগ্রহ করে তা বাজারজাত করতে পারবেন।
আপাতত রাজ্যের আর্সেনিক কবলিত চাষীদের কাছে আর্সেনিক প্রভাবমুক্ত মুক্তশ্রী ধান যেন এক আশীর্বাদ। মাটি উৎসবের স্টলে তাই এ ধানের খোঁজে চাষীদের উপচে পড়া ভিড় দেখে স্বস্তি চুঁচুড়া ধান্য গবেষণা কেন্দ্রেরও ।

