Headlines
Loading...
ভারতীয় সৈন্যদের বাঁচাতে গোপন অস্ত্র আবিষ্কার কালনার শুভঞ্জনের।

ভারতীয় সৈন্যদের বাঁচাতে গোপন অস্ত্র আবিষ্কার কালনার শুভঞ্জনের।

পল্লব ঘোষ,কালনা: স্বাধীনতা দিবস প্রতি বছরই ঘুরে ঘুরে আসে। কিন্তু ২০০৩ সালের সেই স্বাধীনতা দিবসের স্মৃতিটা আজও বড় বেদনার। সেই দুঃখের দিনটা আজও বেদনাহত করে কালনার অধিকারী পাড়ার বাসিন্দা শুভঞ্জনকে।সে বছর স্বাধীনতার আগের রাতে কফিন বন্দী হয়ে আসে যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রাণ দেওয়া কাকা বিশ্বজিত সাহার লাশ। শোনা যায় পাহাড়ের ওপরে লুকিয়ে থাকা পাকিস্তানি সৈন্যদের গুলিতে উধমপুরে ঝাঝড়া হয়ে যায় ভারতীয় সৈন্য বিশ্বজিতের দেহ। তারপর থেকেই কিছু একটা করার চিন্তা ভাবনা শুরু হয়ে যায় সে দিনের ছোট্ট শুভঞ্জনের মাথায়। কি করে বিপক্ষের সৈন্যদের গতিবিধি মাটি থেকেই নজর রাখা যায়, সেদিন থেকেই মাথায় ঢুকে যায় তার। চোরাগোপ্তা আক্রমণের হাত থেকে ভারতীয় সৈন্যদের বাঁচাতে  কিছু একটা করার পরিকল্পনা করতে থাকে সে। লুকিয়ে ওপর থেকে যাতে শত্রুপক্ষ আক্রমণ করে হত্যা করতে না পারে ভারতীয় সৈন্যদের  তার জন্যই সে গবেষণা শুরু করে।
কল্যাণী গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এমসিএ নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি শুভঞ্জন মেতে থাকে তার আবিষ্কার নিয়ে।ছয় বছর গবেষণা করার পর সাফল্য মেলে গত বছর।দেশের উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক সংস্থা 'বোয়িং' গতবছর শুভঞ্জনের আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। দিল্লিতে আইআইটি ন্যাশনাল কম্পিটিশনে দেশের ৮২৬ জন প্রতিভাবান পড়ুয়ার মধ্যে শুভঞ্জনের কোয়াড প্লেন [quad plane] তৃতীয় স্থান দখল করেছিল। এর আগে ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি কালনার মহকুমা শাসক শশাঙ্ক শেঠ্ঠিও তাকে তার উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার জন্য সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। 

এখন জানার বিষয় এই কোয়াড প্লেন আসলে কি?

দু ধরণের প্লেন তৈরী করেছে শুভঞ্জন। এই প্লেনগুলি কেবলমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়,বন্যা,ভূমিকম্প,ধ্বস এর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও সমান ভাবে কার্যকরী। একটি প্লেন মাটির ২০০ মিটার উপর থেকে খুব সহজেই যেমন নিচের লক্ষবস্তুকে নজর রাখতে পারবে একই সাথে প্লেন এ লাগানো শক্তিশালী ক্যামেরার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের গোপন ছবিও তুলে পাঠাতে পারবে।
ওপর প্লেনটি আরও উন্নত। এটি মাটি থেকে ৫০০মিটার উপরে ওড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন। এমনকি এই প্লেনটি ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে অবিরাম চক্কর কাটতে পারবে। সোলার প্যানেল লাগানো থাকার ফলে এই প্লেনটি শব্দহীন।থার্মোকল,সোলার প্যানেল বোর্ড,আর ক্যামেরা দিয়ে তৈরী কোয়াড প্লেন ওজনেও হালকা। সম্পূর্ণ রিমোট চালিত হওয়ায় যে কোনো পরিস্থিতে অনেক দূরে বসেই এই প্লেনকে পরিচালনা করা সহজ বলে জানিয়েছেন শুভঞ্জন। তিনি আরো জানিয়েছেন এই প্লেনগুলির আরো একটি দক্ষতা রয়েছে। এদেরকে প্রয়োজন মতো নিচে নামানো বা উপরে তোলা যাবে।ফলে নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় প্রয়োজনমতো হালকা কিছু পাঠানোর থাকলে সেটিও এই কোয়াড প্লেন মারফত সম্ভব। 
২০১৩ এখন অতীত, তবু দেশের সুরক্ষার স্বার্থে অবিচল , অবিরাম কাজ করে চলেছে কালনার শুভঞ্জন সাহা। যদিও পড়াশোনা শেষ করে মাত্র দুদিন আগে কালনারই একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরি পেয়েছে শুভঞ্জন। কিন্তু তাতে তার যে দেশপ্রেমে কোনো ভাটা পড়বে না , তা বেশ জোর গলাতেই বললেন শহীদ বিশ্বজিৎ সাহার ভাগ্নে।                                                   ছবি - শুভদীপ চ্যাটার্জী 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});