
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,গলসিঃ গলসীতে এক গৃহবধুর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো। বুধবার সকালে উচ্চগ্রামের আধিবাসী পাড়ার এক গৃহবধুকে ঝুলন্ত অবস্তায় দেখতে পান তার স্বামী সুনীল মাড্ডি। জানা গেছে মৃত গৃহবধুর নাম বুধিন মাড্ডি (৩০)। স্বামী সুনিল মাড্ডি পেশায় ভ্যান চালক।
সুনিল মাড্ডির ভাই কার্তিক মাড্ডি জানান, কিছুদিন আগে তার বৌদি বুধিন মাড্ডি জানতে পারে যে তার দাদার সাথে অন্য কারোর সম্পর্ক আছে। সেই নিয়েই মাস ২ ধরে বাড়িতে অশান্তি চলছিল। এদিন রাতে ওই নিয়ে দাদা বৌদির মধ্য পুনরায় অশান্তি হয়। কথা কাটাকাটি হয় তারপর সকলে শুয়ে পরে। সকালে উঠে তারা চিৎকার শুনে ছুটে আসে। এবং দেখে যে তার বৌদি গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। তারপর তারা এলাকার মানুষজনকে ও প্রশাসনে খবর দিলে গলসি পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
গ্রামের মোড়ল সনু মাড্ডি জানান, গত কাল সন্ধ্যাতে তার বাড়িতে আসে বুধিন মান্ডি। তাদের পারিবারিক সব সমস্যার কথা জানাতে। তিনি ওই সুনিল কে ডেকে নিয়ে আসেন। এবং একটি সালিশি সভার অয়োজন করেন। ওই সালিশি সভায় বুধিন মান্ডি জানান, তার স্বামী সুনীল মান্ডীর অন্য কারোর সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে। আর সেই কারনে তাদের বাড়িতে বেশ কিছুদিন ধরে অশান্তি চলছে। তিনি আরও জানান, ওই অভিযোগ শোনার পর তিনি তাদের বুঝিয়ে সব মিটমাট করে দেন। তার পর তারা উভয়ে বাড়ি চলে যায়। বাড়ি যাবার পর আবার তাদের অশান্তি হয় বলে তিনি জানতে পারেন। পাড়ার লোক তার কাছে জানাতে আসে। তিনি তারপর তখন সিদ্ধান্ত নেন যে কাল পুনরায় গ্রামের সব মানুষ কে নিয়ে একটি আলোচনা সভা করবেন। আলোচনার জায়গাও গ্রামের জহর তলাতে ঠিক করে ফেলেন তিনি। তবে এদিন সকালে তিনি জানতে পারেন বুধিন মাড্ডি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
গলসী থানার পুলিশ সুনিলকে আটক করে। দেহটিকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বর্ধমানে পাঠানো হয়। সুনিলের মা বাবা পলাতক। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধিন মাড্ডি সুনিল মাড্ডিকে ১৫ বছর আগে বিয়ে করে উচ্চগ্রামে আসেন। তাছাড়া তাদের ১৩ বছর ও ১০ বছরের দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
