
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ রোগী পক্ষের লোকজনের হাতে কর্তব্যরত সিনিয়র ডাক্তার এবং দুই জুনিয়ার ডাক্তারের মার খাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঘটানটি ঘটেছে সোমবার সকালে। রোগীপক্ষের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র ভিজিটিং প্রফেসর ডা. কে কে দে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন সঞ্জীব হালদার এবং অপূর্ব ঘোষ নামে আরও দুই জুনিয়র ডাক্তার। কে কে দে-র চোখে ও মুখে ব্যাপক আঘাত লেগেছে।
সোমবার সকালে এই ঘটনার জেরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তাররা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা কাজ বন্ধ রেখেই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপত্তার দাবীতে হাসপাতাল সুপারকে ঘেরাও করেন। পরে হাসপাতাল সুপার ডা. উৎপল দাঁ, ডেপুটি সুপার ডা. অমিতাভ সাহা জরুরী বিভাগে আসেন। হাসপাতালের পুলিস ক্যাম্প থেকে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে রোগীপক্ষের ৩জনকে আটক করেছে।
জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের বড়ঞা এলাকার বাসিন্দা বাবলু সেখ (৫৫) পথ দুর্ঘটনায় জখম হন। তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করা হয়। আহতের আত্মীয় বদরে আলম জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনার পর তার চিকিৎসা শুরু হয়। স্যালাইনও দেওয়া হয়। বেড না পাওয়ায় মেঝেতেই তার চিকিৎসা হলেও রাতেই তার স্যালাইন ফুরিয়ে যাওয়ায় বারবার তাঁরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু সোমবার সকালেও তার স্যালাইন বদলানো হয়নি। এদিন সকালে যখন ডাক্তার কে কে দে সহ আরও দুই জুনিয়র ডাক্তার জরুরী বিভাগ পরিদর্শনে আসেন, সেই সময় আসার পথে মেঝেতে পথ আটকিয়ে থাকায় রোগীপক্ষকে সরে যেতে বলেন। তা নিয়ে রোগীপক্ষের সঙ্গে বচসা হয়।

এদিকে এই সময়ই রোগীপক্ষের লোকজন ডাক্তার কে কে দে-কে বেধড়ক মারধোর করেন বলে অভিযোগ । তাঁকে বাঁচাতে দুই জুনিয়র ডাক্তার ছুটে গেলে তাঁদেরও মারধোর করা হয়। এই ঘটনার পরই ডাক্তাররা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পাল্টা রোগীপক্ষের লোকজনকেও জুনিয়ার ডাক্তারদের একাংশ বেধড়ক মারধর করেছে বলে রোগীপক্ষের লোকজন অভিযোগ করেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ রোগীপক্ষের ৩জনকে আটক করেছেন।
বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রিয়ব্রত রায় জানিয়েছেন, রোগীপক্ষ এবং চিকিৎসক মহল দুই পক্ষই অভিযোগ করেছেন এক অপরের বিরুদ্ধে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৩জনকে আটক করা হয়েছে।

হাসপাতাল সুপার ডা. উত্পল দাঁ জানিয়েছেন, এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। রোগীপক্ষের আত্মীয় বদরে আলম জানিয়েছেন, এদিন চিকিৎসকরাই তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে চড়াও হন। আহত প্রবীণ চিকিৎসক কে কে দে জানিয়েছেন, তাঁর ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে তা তাঁর চিকিৎসা জীবনে কখনও হয়নি। চিকিৎসার পরিবেশ নেই।
