Headlines
Loading...
মাধ্যমিকে জন্মান্ধ দুই ছাত্রের অভাবনীয় সাফল্যে গর্বিত বীরভূম

মাধ্যমিকে জন্মান্ধ দুই ছাত্রের অভাবনীয় সাফল্যে গর্বিত বীরভূম


পিয়ালী দাস, বীরভূমঃ আমার আপনার থেকে ওরা কিছুটা আলাদা, আলাদা কেবল শারীরিক সক্ষমতায়। তবুও জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় জয় ছিনিয়ে নিলো অনায়াসেই। তাই এই জয় সত্যিই গর্বের - অহঙ্কারের।

আর পাঁচটা ছাত্র ছাত্রীদের থেকে আলাদা বীরভূমের শ্রী শ্রী অরবিন্দ ইনস্টিটিউট অফ সাইটলেস স্কুলের দুই ছাত্র সঞ্জয় ও মনোজিৎ। তারা দুজনেই জন্মান্ধ। এই পৃথিবী কি জিনিস তা তারা কোনোদিন নিজেদের চোখ দিয়ে দেখেনি, হয়েছে শুধু অনুভব করা। তা সত্ত্বেও হাজার ইচ্ছায়, হাজার প্রতিকূলতার মাঝেও এবছর বসেছিল জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় – মাধ্যমিকে। প্রস্তুতি বেশ ভালোই ছিল। সেই মত পরীক্ষাও বেশ ভালো হয়েছিল। এবার ছিল শুধু ফলাফলের অপেক্ষা। আর ফল বেরোতেই অদের আনন্দ কোথায় থাকে! আমরা যখন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়ের লড়াইয়ে দৌড়ে বেড়াই, তখন সঞ্জয় আর মনোজিতের মত ছাত্র ছাত্রীরা কেবলমাত্র ভালো ফলের আশায় বাঁচে। হ্যাঁ, আর এই আশাই তাদের বাঁচিয়ে রাখলো। সঞ্জয় মণ্ডল ও মনোজিৎ দাস দুজনেই খুবই ভালো নাম্বার পেয়ে সফল হয়েছে। সঞ্জয় পেয়েছে ৫৮১ এবং মনোজিৎ ৫৮০।

বিষয় অনুযায়ী সঞ্জয়ের প্রাপ্ত নাম্বার – বাংলা ৮০, ইংরেজি ৮৫, গণিত ৯২, ভৌত বিজ্ঞান ৮৬, জীবন বিজ্ঞান ৮৩, ইতিহাস ৭৩ এবং ভূগোল ৮২।
আর মনোজিৎ-এর বিষয় অনুযায়ী প্রাপ্ত নাম্বার – বাংলায় ৮০, ইংরেজি ৮১, গণিত ৯৪, ভৌত বিজ্ঞান ৯৩, জীবন বিজ্ঞান ৯০, ইতিহাস ৬৫, ভূগোল ৭৭।

এবিষয়ে আরও বলে রাখা ভালো যে এবছর এই সাইটলেস স্কুলে দুজনই পরীক্ষায় বসেছিল আর তাদের দুজনই খুব উজ্জ্বলতার সাথে সফল। সঞ্জয় আর মনোজিৎ কেবল শারীরিক ভাবেই অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়া ছাত্র তাই নয়। এরা আর্থিক বা অন্যান্য যেকোন বিষয়েই আর পাঁচজনের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে। সঞ্জয়ের বাড়ি বীরভূমের মকদম নগরে। বাড়ির র্অথিক অবস্থা খুব ভাল নয়। বাবা রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল অন্যের জমিতে চাষ করে সংসার চালান। সঞ্জয় শ্রী শ্রী অরবিন্দ ইনস্টিটিউট অফ সাইটলেস স্কুলে থেকেই পড়াশুনা করত। অন্যদিকে মনোজিৎ-এর বাড়ী রামপুরহাট। মনোজিৎ-এর বাবা মা ছেলেকে ছেড়ে ইতিমধ্যেই পরলোকগত। দাদারা ছাড়া নেই আর কেউই নেই দেখাশোনা করার।
এমনই হাজার প্রতিকূলতাকে দূরে সরিয়ে আজ এই দুজনের এমন সাফল্যে স্কুল, আত্মীয় থেকে আরম্ভ করে গোটা বীরভূমবাসী উচ্ছসিত, গর্বিত।
                                                                                                                                ছবি - প্রতীকী 
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});