Headlines
Loading...
প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন দুঃস্থ আদিবাসী ছাত্রীকে সাই-এ সুযোগ করে দিতে উদ্যোগী পূর্ব বর্ধমান প্রশাসন

প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন দুঃস্থ আদিবাসী ছাত্রীকে সাই-এ সুযোগ করে দিতে উদ্যোগী পূর্ব বর্ধমান প্রশাসন

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,মেমারি:আর্থিক অনটনের কারণে প্রতিশ্রুতিমান ক্রীড়াবিদ আদিবাসী দুই ছাত্রীর ভবিষৎ যাতে অন্ধকারে চলে না যায় তার জন্য এগিয়ে এলো পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। সাই-এ প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশ করে ইতিমধ্যেই আবেদন পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন দপ্তর থেকে। মেমারী ১নং ব্লকের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিশিরাগড় এলাকার বাসিন্দা তথা মোবারকপুর বিবেকানন্দ প্রাথমিক নিম্নবুনিয়াদী বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী রজনী হেমব্রম। খেলাধূলায় উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী রজনী ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে সকলের। ২০১৬ সালে ৩৪তম রাজ্য বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ২০০ মিটার দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। ২০১৭ বর্ষেও ৩৫তম রাজ্য বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় লংজাম্পে প্রথম স্থান অর্জন করে নজর কেড়েছে সে। কিন্তু আর্থিক দুরাবস্থার কারণে রজনীর উচ্চাশা কার্যত শেষ হতে চলেছে।
রজনীর বাবা শ্যাম হেমব্রম আর্থিক অসঙ্গতি সম্পন্ন একজন প্রতিবন্ধী। তিনি চান মেয়ে অনেক দূর যাক। কিন্তু তাঁর পক্ষে এই সুযোগ করে দেওয়া অসম্ভব। তবে রজনীর প্রতিভার বিকাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এলাকার চিকিৎসক ডা. বিকাশ সিনহা। তিনি জানান, রজনীর বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন। তাঁর সেই আবেদনের ভিত্তিতে বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহকুমা শাসক এবং জেলা যুবকল্যাণ আধিকারিক উভয়েই রজনীকে সাই-এ প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশ করেছেন।পাশাপাশি জেলা পরিষদের সভাধিপতিও রজনীর নাম সুপারিশ করে পাঠিয়েছেন সাই-এ।


বিকাশবাবু জানিয়েছেন, শ্যাম হেমব্রমের দুই মেয়ে এক ছেলে। ইতিমধ্যে তাঁর বড় মেয়েও ফুটবলে সুনাম কুড়িয়েছে। তবে অভাবের সংসারে এই দুই মেয়ের প্রতিভা কার্যত নষ্ট হতে বসেছে। তাঁদের আসা রজনী সঠিক সুযোগ পেলে কেবলমাত্র বর্ধমানেরই নয়, এ্যাথলেটিক্স হিসাবে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে। কার্যত তাঁরা এখন সাই-এর অনুমোদনের অপেক্ষায় দিন গুণছেন।
বাবা শ্যাম হেমব্রম জানিয়েছেন, রজনীর এই প্রতিভাকে তুলে ধরতে যা দরকার তা দেবার তাদের সামর্থ্য নেই। যদি সরকার এগিয়ে আসে তবেই সেটা সম্ভব।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});