Headlines
Loading...
বর্ধমানের খোসবাগানে সক্রিয় দালালরাজ,কোনোরকমে রক্ষা পেলেন শান্তিরাম।

বর্ধমানের খোসবাগানে সক্রিয় দালালরাজ,কোনোরকমে রক্ষা পেলেন শান্তিরাম।

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান:বর্ধমানের খোসবাগানে চোখ দেখতে এসে দালালের খপ্পরে পরে প্রায় সর্বশান্ত হতে বসেছিলেন মঙ্গলকোটের চৈতন্যপুরের বাসিন্দা শান্তিরাম মাঝি। রীতিমতো ভুল বুঝিয়ে,মিথ্যা কথা বলে খোসবাগানের মেড ভিউ ক্লিনিকে এক ডাক্তারের মাধ্যমে সরাসরি অপারেশন করে দেওয়া হয় শান্তিরাম বাবুর চোখের। নূন্যতম পরীক্ষা নিরীক্ষাটুকুও অপারেশনের আগে করানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি জোর করে শান্তিরাম মাঝির স্বাস্থ্যবীমার কার্ড ও ভোটার কার্ডও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের সভাপতি আভাষ ভট্টাচার্য জানান, গ্রামের অশিক্ষিত মানুষ শান্তিরাম এসেছিলেন চোখের ডাক্তার দেখাতে। তাঁর চোখ দিয়ে জল কাটছিলো। তিনি খোসবাগানের মেড ভিউ ক্লিনিকে হাজির হতেই একজন মহিলা শান্তিরামের সমস্যা শুনে তাঁকে ডাক্তার দেখিয়ে দেবার প্রস্তাব দেয়। শান্তিরামবাবুর কাছে থাকা স্বাস্থ্যবীমার কার্ড এবং ভোটার কার্ড নিয়ে ওই প্রতারক মহিলা জানান যে সেদিনই একজন ভালো ডাক্তার আছেন,অপারেশন সেদিনই করে নেওয়ার জন্য। কারণ ওই ডাক্তার কিছুদিনের জন্য বাইরে বেড়াতে চলে যাবেন। যথারীতি শান্তিরাম মাঝির বাড়ির লোকজনদের অমতেই এবং তাদের না জানিয়েই তার চোখের ছানি অপারেশনও হয়ে যায়।
 বিষয়টি এরপর নজরে আসে আভাষবাবুর। তিনি সরাসরি মেডভিউ-এর কর্ণধার ডা. আবীর গুহের সঙ্গে কথা বলেন। আভাষবাবু জানিয়েছেন, আবির গুহ তাঁকে জানিয়ে দেন, এরকম কোনো অপারেশনই করা হয়নি। সন্দেহ হওয়ায় আভাষবাবু খোঁজখবর নিয়ে দেখেন শুধু অপারেশনই করা হয়েছে এমনটাই নয়, অপারেশনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যে চিকিৎসা পদ্ধতি ও নিয়ম তার কোনোটাই মানা হয়নি। এমনকি জোর করে শান্তিরাম মাঝির স্বাস্থ্যবীমার কার্ড ও ভোটার কার্ডও আটকে রাখা হয়েছে। আভাষবাবু জানিয়েছেন, এই গর্হিত অপরাধ এবং লোক ঠকানোর এই কারবারের ঘটনায় তিনি জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাচ্ছেন।
পাশাপাশি আভাষ বাবু চুপ করে বসে না থেকে খোঁজখবর নিতেই জানতে পারেন ওই ব্যক্তি মধুমিতা গাঙ্গুলী নামে এক মহিলা দালালের খপ্পরে পড়েছেন। মধুমিতা গাঙ্গুলী বিভিন্ন নার্সিংহোমে আয়া তথা মাসির কাজও করেন। তিনি এই বিষয়ে ডাঃ আবির গুহকেও জানান। আর এরপরই ওই মহিলাকে ডেকে পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় তিনি যেন মেড ভিউ ক্লিনিকে আর পা না দেয়।
এদিকে এই ঘটনার কথা সংবাদ মাধ্যমের কাছে পৌঁছে যেতেই নড়েচড়ে বসে ক্লিনিক কতৃপক্ষ। শান্তিরামবাবুর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ মুকুব করে তাঁর কাছ থেকে নেওয়া কার্ডগুলিও ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়।এমনকি চেকআপ সহ পরবর্তী ওষুধপত্র দেবার ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ নিখরচায় করে দেবার কথা জানানো হয়েছে শান্তিরামবাবুকে।
আভাষবাবু জানান, গোটা বিষয়টি জানা গিয়েছিল বলে শান্তিরাম মাঝি রেহাই পেলেন, কিন্তু প্রতিদিন প্রতিনিয়তই খোসবাগানে এই ধরণের প্রতারণার ঘটনা চলছে।প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। তিনি জানিয়েছেন, সরকার বলছে চিকিৎসা ক্ষেত্রে দালালরাজ খতম করার কথা, অথচ বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বেসরকারী ক্ষেত্রেও রমরমিয়ে চলছে এই দাললারাজ যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ শান্তিরাম মাঝির ঘটনা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});