Headlines
Loading...
এবার শীতে পর্যটক টানতে বর্ধমানের রমনার বাগান জুলজিক্যাল পার্ককে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

এবার শীতে পর্যটক টানতে বর্ধমানের রমনার বাগান জুলজিক্যাল পার্ককে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।



সৌরীশ দে,বর্ধমান: আসন্ন শীতে বর্ধমানে পর্যটক টানতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে রমনার  বাগান জুলজিক্যাল পার্ককে। জোর কদমে চলছে তারই প্রস্তুতি। বর্ধমান জেলা বন দপ্তরের উদ্যোগে নবরূপে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বর্ধমানের এই অভয়ারণ্যের চিড়িয়াখানাকে। শুক্রুবার বর্ধমান জেলা বনাধিকারিক দেবাশীষ শর্মা বলেন, বর্ধমানের এই রমনা বাগানের চিড়িয়াখানাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে জেলা তথা রাজ্যবাসীর কাছে নবরূপে এই জুলজিক্যাল পার্ককে তুলে ধরা হবে। নতুন নানা পশু পক্ষীর সম্ভার নিয়ে হাজির করা হবে পর্যটকদের কাছে।

চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাড়াতে নিয়ে আসা হচ্ছে বার্কিং ডিয়ার এবং সাম্ব ডিয়ার। বর্তমানে এখানে ১৫০টি স্পটেড ডিয়ার রয়েছে। নতুন হরিণ আসার পর এই সংখ্যাটা প্রায় ২০০র কাছাকাছি পৌঁছবে। শুধু হরিণই নয়, ইতিমধ্যেই দর্শক টানতে তৈরী করা হচ্ছে লেপার্ড এনক্লোজার। যেখানে ৪টি লেপার্ডের থাকার ব্যবস্থা থাকবে। এনক্লোজার তৈরী হচ্ছে ভাল্লুকের জন্যেও।বিভিন্ন প্রজাতির ৪টি ভাল্লুকের থাকার ব্যবস্থা থাকবে সেখানে। দর্শকদের কাছে আকর্ষণ বাড়াতে জলাশয়ে কুমিরের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। তার জন্য ইতিমধ্যেই আলাদা পুকুর খোঁড়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সম্প্রতি একটি সাদা কুমীর মারা যাওয়ায় বর্তমানে জলাশয়ে একটি কালো কুমীর রয়েছে।

দেবাশীষ বাবু বলেন, এছাড়াও পাখিদের সংখ্যা বাড়িয়ে থাকার জন্য তৈরী করা হচ্ছে খাঁচা।সেখানে নিয়ে আসা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির নানা ধরণের পাখিও। থাকবে বাঁদরের বেশ কয়েকটি প্রজাতি। নিয়ে আসা হচ্ছে শিয়ালও (জ্যাকেল )। এছাড়া সারস,সজারু,কচ্ছপ তো রয়েছেই।
দেবাশীষবাবু বলেন, ঐতিহাসিক বর্ধমান শহরের এই অভায়ারণ্যের ইতিহাস তুলে ধরা হবে পর্যটকদের কাছে। দর্শকরা পার্কে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তৈরী করা হচ্ছে বিশেষ বসার ব্যবস্থা। তবে এবার থেকে পার্কের নিরাপত্তা এবং পরিবেশের কথা চিন্তা করে চিড়িয়াখানায় ঢোকার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হচ্ছে প্ল্যাষ্টিক সামগ্রী।
 দেবাশীষবাবু বলেন, রমনা বাগানের এই জুলজিক্যাল পার্কের ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য বর্ষার সময় জল জমে যাওয়ায় কিছু সমস্যা দেখা দেয়। অতিবৃষ্টির ফলে এবছর খালের জল উপচে ঢুকে যাওয়ায় পশুদের অসুবিধা হয়েছিল। তাই পরিখা খোঁড়া হয়েছে।সেখানে বসানো হচ্ছে স্লুইস গেট। এরই পাশাপাশি কেন্দ্রীয় জু কর্তৃপক্ষের নির্দেশানুসারে পশু পাখিদের খাবার তৈরী করা ও রাখার জায়গাকে নতুন করে বিজ্ঞান সম্মতভাবে তৈরী করার কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তাঁরা আশা করছেন আগামী জানুয়ারী মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়ে নতুনরূপে পর্যটকদের সামনে খুলে দেওয়া যাবে। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});