Headlines
Loading...
শহর বর্ধমান - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ - স্বাধীনতা দিবস। সব মিলে একাকার।

শহর বর্ধমান - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ - স্বাধীনতা দিবস। সব মিলে একাকার।

সৌরীশ দে,পূর্ব বর্ধমান : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে বর্ধমানের কোনো সম্পর্ক আছে কি?
তাবড় ইতিহাসবিদদের সঙ্গে কথা বলেও এই বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাহলে এই প্রসঙ্গ কেন?
বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে না থাক,কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকায় ব্যবহৃত তৎকালীন অত্যাধুনিক একটি গাড়ি আজও রয়েছে শহর বর্ধমানে। আর যিনি সেই গাড়ির মালিক তিনি নিয়ম করে দেশের স্বাধীনতা দিবস,প্রজাতন্ত্র দিবস এমনকি নেতাজির জন্ম দিনেও সপরিবারে সেই অমূল্য গাড়ি চেপে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। আগামীকাল দেশের ৭০তম স্বাধীনতা দিবস। শহর বর্ধমানের রাজপথে তাই দেখা যাবে সেই আমেরিকার ব্যবহার করা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার গাড়িটিকে। 
গোটা শহরের সঙ্গে বর্ধমান শহরের রাজ সিং ভুতুরিয়ার পরিবারও আগামীকাল স্বাধীনতা দিবস পালন করবেন। কিন্তু একটু অন্যভাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধের প্রয়োজনে ব্যবহৃত গাড়ীতে চেপে।আর তাতে লাগানো থাকবে ভারতের জাতীয় পতাকা। অবাক লাগলেও গত ২০১০ সাল থেকেই রাজসিং ভুতুরিয়ার পরিবার এইভাবেই ১৫ আগষ্ট, ২৬ জানুয়ারী, ২৩ জানুয়ারীর দিনগুলো পালন করে আসছেন।সোমবার স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন তাই জোরকদমে মিস্ত্রী লাগিয়ে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণও চলল। 

কিন্তু কেন এইভাবে স্বাধীনতা দিবস পালন? 
উত্তর দিতে গিয়ে রাজসিং ভুতুরিয়া জানিয়েছেন, একসময় বিহারে পারিবারিক গাড়ির ব্যবসা ছিল তাঁদের। তখন থেকেই তাঁর শখ ছিল সুযোগ পেলে তিনি এমন গাড়িতেই চাপবেন যে গাড়িতে সচরাচর কেউ চাপেননি।  খোঁজ খবর নিয়ে তিনি কলকাতার একটি কোম্পানীর কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলে যুদ্ধের প্রয়োজনে ব্যবহৃত এই ধরণের জিপ গাড়িটির সন্ধান পান।আর তিনি সেটি  কিনেও  নেন। ভুতুড়িয়া বাবুর কোথায়, শখের দাম লাখ টাকা। পরে বর্ধমানের পানাগড়ে গাড়িটিকে নিয়ে গিয়ে ৭মাস ধরে তাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। সযত্নে রক্ষণাবেক্ষন করেন সারা বছর। 

 কি বৈশিষ্ট্য এই যুদ্ধবাজ গাড়িটির? 
রাজ সিং ভুতুরিয়া জানিয়েছেন, ১৯৪২ সালে আমেরিকান সৈন্যবাহিনী একটি বিশেষ ধরণের গাড়ি তৈরী করে। গাড়িটি যেমন সড়ক পথে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাবলীল,তেমনি রেললাইনের ওপর দিয়েও।এমনকি এই গাড়ি প্রয়োজনে জলেও চলতে ওস্তাদ।গাড়িতেই রয়েছে বন্দুক রাখার জায়গা,ওয়ারলেস সিস্টেম, রাস্তায় পাথর, গাছ বা অনভিপ্রেত জিনিসকে দ্রুত সরানোর জন্য বেলচা এবং কাটার জন্য অস্ত্র রাখার নির্দিষ্ট জায়গাও। রয়েছে ৩টি গিয়ার। জলে, স্থলে বা পাহাড়েও বিনা বাধায় দ্রুতবেগে চড়তে এই গিয়ারগুলি কার্যকরী ভূমিকা নেয়। গাড়িতেই  রয়েছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা।
 
রাজসিং ভুতুরিয়া জানিয়েছেন, ২০১০ সাল থেকেই কলকাতার একটি সংস্থার ভিনটেজ কার রেলিতে এই গাড়িকে তিনি নিয়ে যাচ্ছেন। ঐতিহাসিক এই গাড়ি আজ ভুতুড়িয়া পরিবারের অমূল্য সম্পদ। 
তাই সবাই যখন স্বাধীনতা দিবসের দিন নানা অনুষ্ঠানে মেতে থাকবেন,রাজ্ সিং ভুতুড়িয়া তখন অন্য স্বাধীনতার আনন্দে সপরিবারে হেরিটেজ জার্নিতে মশগুল হবেন ভিন্টেজ কারে। 
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});