ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: বিভিন্ন হস্তশিল্পীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্ধমান শহরের মালকিতা গ্রামে গঠিত কারুজ প্রতিষ্ঠানে মধুচক্র এবং দেহ ব্যবসা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধল। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২জনকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অশোক দত্ত (৬৩) নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি শান্ত করতে এলাকায় পুলিশী টহল শুরু হয়েছে।
একটি গোষ্ঠীর পক্ষে মানিক দাঁ,সাহামতউল্লা মোল্লা প্রমুখরা এদিন জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁরা খবর পাচ্ছিলেন কারুজের মধ্যে নিয়মিত দেহব্যবসা তথা মধুচক্র চলছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি তরুণ ঘোষের নেতৃত্বে। শুক্রবার রাতে এলাকার মানুষজন ওই কারুজে গেলে তাঁরা ৪ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতেও পান। এরপরই শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা।
প্রাথমিকভাবে তা মিটে গেলেও মানিকবাবু জানিয়েছেন, শনিবার সকালে দেওয়ানদিঘীতে বর্ধমান ১নং ব্লকের তৃণমূল সভাপতি কাকলী তা-এর নেতৃত্বে একটি বৈঠক সেরে তাঁরা যখন ফিরছিলেন সেই সময় তরুণ ঘোষের নেতৃত্বে একদল গ্রামবাসী তাঁদের ওপর চড়াও হন। তাতেই গুরুতর জখম হন অশোক দত্ত সহ কয়েকজন। এই ঘটনায় পুলিশ ২জনকে আটকও করেছে।
অন্যদিকে, তরুণ ঘোষ জানিয়েছেন, এই মারধোরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। মিথ্যাভাবে তাঁকে জড়ানো হচ্ছে। পাল্টা তিনি জানিয়েছেন,বাম আমলে ওই কারুজ গ্রামে হস্তশিল্পীদের মালপত্র তৈরী ও বিপননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কালক্রমে তা নষ্ট হয়ে যায়। এরপর গ্রামবাসী এবং তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব সহ জেলা প্রশাসনের সর্বত্র স্তরে কারুজ গ্রামকে বাঁচানোর জন্য আবেদন জানানো হয়।
আগামী সপ্তাহেই বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদ এই কারুজ গ্রামের একাংশের উন্নয়ের জন্য টেণ্ডার ডাকতে চলেছেন। এই অবস্থায় কারও স্বার্থে আঘাত লাগার জন্যই মিথ্যাভাবে একদল স্বার্থানেষী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন বলে তরুণ ঘোষ জানিয়েছেন। এরই পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, অসামাজিক কার্যকলাপ হলে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিক ,সেখানে তাঁর আপত্তি থাকবে কেন।


