ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান : আজই দেশের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি হিসাবে রামনাথ কোবিন্দ শপথ গ্রহণ করেছেন। দিল্লিতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশ বিদেশের নামি দামি বহু মানুষ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে আমন্ত্রিত ছিলেন। আমন্ত্রিত ছিলেন খোদ নতুন রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী তথা দেশের ফার্স্ট লেডি সবিতা কোবিন্দও। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এতো আনন্দের মুহূর্তেও রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ থেকে বঞ্চিত থেকে গেলো খোদ ফার্স্ট লেডির পরিবারের সদস্যরা। যদিও এই আমন্ত্রণ না পাওয়া নিয়ে বর্ধমান শহরের বি সি রোডের বাসিন্দা কোলি পরিবারের কোনো আক্ষেপ নেই।
এখন দেখবার বিষয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বর্ধমানের সম্পর্ক কি ?
বর্ধমান শহরের বি সি রোডের বড়বাজার -এ পুলিশ ফাঁড়ির কাছেই কোলি পরিবারের বাস। প্রায় ৩০ বছরের কাছাকাছি এই পরিবার এই শহরে বসবাস করছে। আর এই পরিবারেরই মেয়ে আজ দেশের ফার্স্ট লেডি সবিতা কোবিন্দ।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই কোলি পরিবারের বাড়িতে লোকের আনাগোনা বাড়তে শুরু করে। মা গঙ্গা কলি এবং দুই ছেলে বরুণ ও অরুণ কলির ছোট্ট এক চিলতে বাড়িতে তখন পা ফেলার জায়গা নেই। তাদের বাড়ির জামাই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেবেন , এই দৃশ্য দেখতে সবার চোখ তখন টেলিভিশনের পর্দায়। ওমপ্রকাশবাবুর স্ত্রী গঙ্গা কোলি বললেন, গত শনিবারই ননদ সবিতা কোলি [কোবিন্দ ] তাঁকে ফোন করে সুখবরটা দিয়েছিলেন। গঙ্গা দেবী কিছুটা চিন্তা করে বললেন, আজ থেকে প্রায় ২২ বছর আগে জামাই রামনাথ কোবিন্দ এসেছিলেন তাঁদের এই বাড়িতে। ওই বছরেই তিনি দুবার এসেছিলেন। প্রথমবার এসে এক রাত কাটিয়েও গেছেন এই ছোট্ট বাড়িতে।
তাই জামাই এর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় কোলি পরিবারের আনন্দ আর গর্বের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। একসময় দিল্লিতে কোবিন্দ পরিবার ও কোলি পরিবারের মধ্যে ভালোই হৃদ্যতা গড়ে উঠেছিল।এরপর ব্যবসায়িক কারণে বর্তমান রাষ্ট্রপতির বড় শ্যালক ওমপ্রকাশ কলি বর্ধমান শহরে চলে আসেন। বর্ধমান শহরের বিসিরোডে তাঁদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান ওমপ্রকাশ কলি।
ওমপ্রকাশবাবুর ছোট ছেলে বরুণ কলি জানিয়েছেন,তাঁদের ইমিটেশনের ব্যবসা রয়েছে। আর এই ব্যবসার কারণেই তাঁকে প্রায়শই দিল্লী যেতে হয়। তিনি জানিয়েছেন,সেজো পিসেমশাই রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল প্রায় আড়াই বছর আগে দিল্লীর বাড়িতে। কথাও হয়েছিল। এরপরও রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর অন্যান আত্মীয়রা ডাক পেলেও অবশ্য বর্ধমানের এই কলি পরিবারে আসেনি কোনো আমন্ত্রণ।
তাতেও আনন্দের কোনো খেদ নেই এই কলি পরিবারে।বরুণ কলি বললেন, আর যাই হোক আমাদের পরিবারের একজন দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন ,এর থেকে ভালো কি হতে পারে।

