Headlines
Loading...
ডিভিসি ক্রমাগত জল ছাড়ার ফলে বাঁকুড়ায় বন্যা পরিস্থিতি।

ডিভিসি ক্রমাগত জল ছাড়ার ফলে বাঁকুড়ায় বন্যা পরিস্থিতি।

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বাঁকুড়া:  ডিভিসির দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ক্রমাগত  জল ছাড়ার ফলে বাঁকুড়ার ইন্দাস, পাত্রসায়র, কোতুলপুর ব্লক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ৷ গত বেশ  কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে ৷ জেলার বিভিন্ন নদী  গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, কংসাবতী, জয়পণ্ডা, শালী, ভৈরব,বাঁকি সহ অধিকাংশ  ছোট বড় নদী জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে৷
ধারাবাহিক বৃষ্টি আর নদীতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির ফলে ধান সহ অনান্য  ফসলের  ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা চাষীদের।  নদী সংলগ্ন এলাকার বিঘার পর বিঘা চাষের জমি জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। ধানের পাশাপাশি বাঁকুড়ার অন্যতম অর্থকরী ফসল পাট ও পানেও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষীরা। ইন্দাস,কোতুলপুর,ওন্দা ব্লকের চাষীরা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানা গেছে।
জেলার গন্ধেশ্বরী,বিড়াই ও শিলাবতী নদীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু জলে ডুবে যাওয়ায় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ চরম সমস্যায়  রয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে অফিসযাত্রীরা ।  সিমলাপাল শিলাবতী সেতু জলে ডুবে যাওয়ায় বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ। কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে জলমগ্ন সেতু দিয়ে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।টানা বৃষ্টিতে জেলার পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।রাস্তার বিভিন্ন অংশের ক্ষতির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সেতু গুলির উপর দিয়ে জল যাওয়ায় বেসরকারি বাস সহ পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য যানবাহন একেবারেই চলেনি বললেই চলে। অফিসযাত্রী ও জরুরি কাজে বেরোনো সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন৷ এদিকে 
গতকাল আচমকা বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কে ওন্দার রতনপুরের কাছে কংসাবতী সেচ খালের একটি অংশ জলের তোড়ে বসে গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে ওই এলাকায় যানচলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এবং ওই সেতু দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বেরোচ্ছেন না। একই সঙ্গে বাঁকুড়া শহর ও বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন অংশে জল জমে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। শহরের সতীঘাটের উপরে জল উঠে যাওয়া চরম সমস্যায় সাধারণ মানুষ। শহরের বেশিরভাগ দোকান  পাট বন্ধ।রাস্তাঘাট প্রায় সর্বত্র  শুনশান।  মেজিয়ার রেল কলোনী এলাকায় জল জমে যাওয়ায় চরম পানীয়জলের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।ইন্দাসের ভাবাপুর গ্রামে কয়েকটি কাঁচা বাড়ি ধসে গেছে বলেও জানা গেছে।বাঁকুড়া ২ ব্লকের অবস্থাও একই।
জেলা প্রশাসন থেকে পরিস্থিতির উপর  কড়া নজর রেখেছে। সাধারণ মানুষ যাতে কোনও অসুবিধার মধ্যে না পড়েন তার দিকে নজর রাখা হয়েছে। সমস্ত ব্লক প্রশাসনকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি অবস্থার জন্য যাবতীয় ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। 
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});