
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ এন আর এসের ঘটনায় মঙ্গলবার থেকেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আন্দোলনে নামে জুনিয়র ডাক্তার ও ইন্টার্ণরা। সারাদিন চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ থাকার পর ওইদিন গভীর রাত থেকে রোগী পক্ষের লোকজনের সঙ্গে ব্যপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন জুনিয়র ডাক্তাররা। আর এই ঘটনার রেশ চলতে থাকে বুধবার সারাদিন। বহিরাগতদের পাথর বৃষ্টির মুখে গুরুতর আহত হন চারজন জুনিয়ার ডাক্তার। আর এর পরেই ক্ষিপ্ত ইন্টার্ণরা নেমে পরেন পাল্টা মারের রাস্তায়। বাদ যায়নি খোদ হাসপাতালের এএসভিপি উৎপল দাঁ থেকে শুরু করে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক এবং সাংবাদিকরা। পাবলিক, ডাক্তার, পুলিশ খণ্ডযুদ্ধে হাসপাতালের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনি। তবুও দমানো যায়নি প্রতিবাদি জুনিয়ার ডাক্তারদের। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় উঠতে শুরু করেছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন।
১) টেথোস্কোপের বদলে জুনিয়র ডাক্তাররা হাতে লাঠি, রড, কাঠ নিয়ে রোগীদের ওপর আক্রমণ কি করতে পারে? তা কি আইন সম্মত? যদি না হয় তাহলে পুলিশ কেন তাদের গ্রেপ্তার করল না?
২) বর্ধমান হাসপাতাল – সরকারী হাসপাতালের পাশাপাশি রেফারেল হাসপাতালও। বর্ধমান হাসপাতালের মোট বেডের সংখ্যা ১২৩৬। কিন্তু সাধারণত ভর্তি থাকেন ১৩০০ থেকে ১৫০০ রোগী। সেই হাসপাতালের গেট বন্ধ করার কোনো অধিকার কি আছে জুনিয়র ডাক্তারদের? যদি না হয় তাহলে গেট বন্ধ করে রাখার কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল না?
৩) খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে কোনো অবস্থাতেই রোগীদের হাসপাতাল থেকে ভর্তি না করে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। তাহলে কিভাবে মূমুর্ষ রোগী সহ সাধারণ রোগীদের বুধবার সকাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হল?
৪) যেভাবে সরকারী হাসপাতালকে তৃণমূলের নামে গুণ্ডাবাজির আখড়া পরিণত করা হয়েছে - তার বিরুদ্ধে পুলিশ কেন চুপ করে থাকলো?
৫) বাংলার মানুষ দেখে দেখে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে পুলিশের কথা না শুনলেই সরকারী কর্মীদের সরকারী কাজে বাধা দেবার আইন লাগু হয়। বুধবার যেভাবে পুলিশ অফিসারদের নিগৃহিত করা হয়েছে তা রীতিমত লজ্জার। খোদ হাসপাতাল সুপারকেও নিগৃহিত করা হয়েছে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয়েছে - তারপরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হল না কেন? অনায়াসেই হাসপাতাল চত্বর থেকেই তাদের বামাল সমেত গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতি শান্ত করা যেত। তা না করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কেন?
