
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ এখনও বেশ কিছু সরকারী হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে রোগীদের ওষুধ দেওয়া হয় হাতে হাতেই। এমনকি অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে রোগীকে ওষুধ দেবার পর কার্যত মৌখিকভাবেই তাঁদের কোন ওষুধ কখন, কিভাবে খেতে হবে তা বলে দেন। ফলে বিশেষত অনেক বয়স্ক রোগীই তা ভুল করে ফেলেন। কখন কোনটা খেতে হবে তা বুঝতে না পেরে হয় ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন, কিংবা আগে পরের হিসাব গুলিয়ে গিয়ে ওষুধ খেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরেই এই ট্রাডিশান চলছেই। যদিও খোলা বাজারে কোনো দোকান থেকে ওষুধ কিনতে গেলে তাঁরা প্রেসক্রিপশন অনুসারে যেমন কোনটা খেতে হবে কিংবা কতবার খেতে হবে তা নির্দিষ্ট খামের ওপরে লিখে সেই খামে সেই ওষুধই দেন।
কিন্তু সরকারী কেন্দ্রগুলিতে এই ব্যবস্থা চালু এখনও সর্বাত্মক হয়ে ওঠেনি। আর তাই পূর্ব বর্ধমানের মেমারীর পাল্লা পল্লীমঙ্গল সমিতি এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহন করল। সোমবার এই সমিতির পক্ষ থেকে পাল্লা রোড ও বড়শুল এই ২টি হাসপাতালের আউটডোরের রোগীদের জন্য খামের ব্যবস্থা করল। ওই সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন সরকার জানিয়েছেন, এজন্য তাঁদের প্রতি মাসে খাম লাগবে প্রায় ২২০০০টি। এজন্য খরচ পড়বে আনুমানিক মাসিক ৩০০০ টাকা। সন্দীপনবাবু জানিয়েছেন, একদিকে যেমন তাঁরা এই খাম চালু করে রোগীদের সুবিধার চেষ্টা করেছেন, তেমনি খামের ওপর সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফের বার্তাও দিয়েছেন। যাতে যখনই কেউ খাম থেকে ওষুধ খেতে যাবেন তখনই এই ট্রাফিকের নিয়ম সম্পর্কে আরেকবার সচেতন হয়ে যাবেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা আশা করছেন, এই প্রচেষ্টা ট্রাফিক সচেতনতা প্রচারে খুবই কার্যকর হবে। পৌছানো যাবে সর্বস্তরে। দৈনিক আনুমানিক ১০০০ মানুষের কাছে ট্রাফিক সচেতনতার এই বার্তা নিয়ে যে প্রচেষ্টা তা কতটা সফল হয়, তা সময়ই বলবে।

এরই পাশাপাশি এদিন ৭টি রোড ব্যারিকেডেরও উদ্বোধন করা হয়। এইগুলি তৈরী করা হয়েছে পল্লীমঙ্গল সমিতির ফান্ড থেকে। এদিন পাল্লা রোডের রাস্তায় ১টি ট্রাফিক সচেতনতা প্রচারও করা হয়। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সদর দক্ষিণ শৌভনিক মুখোপাধ্যায়, ডেপুটি পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুকান্ত হাজরা, ডেপুটি পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) শৌভিক পাত্র, পুলিশের সার্কেল ইন্সপেক্টর শ্যামল চক্রবর্তী ছাড়াও পাল্লা রোড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার অঙ্কন সাঁই, ব্লক মেডিকেল অফিসার অঞ্জন মুখার্জ্জী, পল্লীমঙ্গল সমিতির সদস্যরাও। উল্লেখ্য, এর আগে এই সমিতির সদস্যরা দামোদরের পাড় সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণ মুক্ত করতে রাসায়নিক ব্যাবহার করে পিকনিকের পর ফেলে যাওয়া প্লাষ্টিককে নষ্ট করে সাড়া ফেলে দিয়েছিল।


