
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কালনাঃ ভাগীরথীর ওপর কালনা - শান্তিপুর সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে জমি সংগ্রহের প্রথম শুনানিতেই ধাক্কা খেলো সরকারি উদ্যোগ। বুধবার জমির দাম ঠিক করতে হাঁসপুকুর মৌজার ৭১ জন জমির মালিককে কালনা মহকুমা শাসক দপ্তরে শুনানির জন্য ডাকা হয়। কিন্তু তার মধ্যে ৪৫জন জমির নথি নিয়ে হাজির হলেও, জমির সরকারি দাম শুনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রায় সকলেই। কেউই এই দামে জমি বিক্রি করতে চান না বলে প্রশাসনের মুখের সামনেই জানিয়ে দেন তারা। মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিমধ্যে বর্তমান বাজার দরের থেকে দেড় গুন বেশি দাম জমি দাতাদের দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবু এদিনের জমিদাতাদের আবেদনের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
অক্টোবর মাসে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্তও গৃহিত হয়। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাগীরথী তথা গঙ্গার ওপর প্রস্তাবিত এই সেতু নির্মাণে বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমার ৪টি মৌজার প্রায় ৪৮ একর জমি ক্রয় করা হবে। দ্রুততার সঙ্গে কৃষকদের জমি কিনতে কালনা মহকুমা শাসককে নির্দ্দেশও দেওয়া হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কালনা মহকুমা শাসক জমি কেনার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে নোটিশ জারি করে বুধবার তাঁর দপ্তরে ডেকেছিলেন হাঁসপুকুর মৌজার জমি মালিকদের। ১৩ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার একই সময়ে ডাকা হয়েছে কুলেদা মৌজার লোকজনকে। সবশেষে ১৪ই ডিসেম্বর শুক্রবার ডাকা হয়েছে পূর্ব সাহাপুর ও বারাসাত মৌজার বাসিন্দাদের।
উল্লেখ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমান ও নদীয়া জেলার সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে এই সেতু নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন। প্রায় ১,০৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয় এই সেতু নির্মাণের জন্য। এরপরই পি ডবলু ডি দপ্তরের পক্ষ থেকে সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখার পর একটি রিপোর্ট রাজ্যে পাঠানো হয়। জমি অধিগ্রহনের বিষয়েও পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনকে একটি রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্য থেকে সবুজ সংকেত আসার পরই দ্রুততার সঙ্গে সেতু নির্মাণের কাজে নেমে পড়ে জেলা পরিষদ এবং প্রশাসন।
