
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,গলসিঃ জয়ী তৃনমুল প্রার্থীর ছেলের দুই পা কাটলো একদল দুস্কৃতী। ঘটনা পুর্ব বর্ধমানের গলসি থানার মনহর সুজাপুর গ্রামের। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকা জুড়ে। গলসি ১ নং ব্লকের পোতনা পুরসা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃনমুল জয়ী প্রার্থী সাবেদ আলি মল্লিক জানান,রবিবার রাতে এলকার নির্দল সমর্থকরা দলবল নিয়ে তার বাড়িতে হুমকি দিয়ে আসে। অভিযোগ, তাকে বলা হয় তৃনমূল প্রার্থীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তাদের সাথে থাকতে হবে। তিনি তাদের সাথে বচসা না করে চুপচাপ থাকেন। ফলে রাতের বেলায় বড় অঘটন থেকে তার পরিবার রেহাই পেয়ে যায়। সোমবার সকাল ৮ টায় তার ছেলে সৌরভ (২৮) বীজতলায় জল কাটতে যায় মাঠে। ফেরার পথে খুরাজ ক্যনেল ব্রীজের বাবনদা পুলে একদল দুষ্কৃতি তার ছেলের উপর রড, লাঠ্ কুডুল নিয়ে চড়াও হয়। কুডুল দিয়ে কেটে দেওয়া হয় সৌরভের দুই পায়ের বেশ কিছুটা অংশ। তাছাড়াও লাটি ও রড দিয়ে পিঠে ও মাথায় আঘাত করা হয়। দিনের আলোয় ঘটনা ঘটায় রাস্তায় যাতায়াতকারী মানুষ ও এলাকাবাসীরা দ্রুত ছুটে আসেন। তারাই গলসি থানায় খবর দেয়। তারপর এলাকাবাসী ও প্রশাসন আশঙ্কাজনক অবস্থায় সৌরভকে তুলে স্থানীয় পুরসা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় এবং দ্রুত পায়ের অপারেশনের প্রয়োজন থাকায় ডাক্তার বর্ধমানে রেফার করে দেন ।

সাবেদ আলি মল্লিক দোষীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন। এছারাও দলের এবং প্রশাসনের কাছে পরিবারের সুরক্ষার দাবী জানিয়েছেন। গলসি ১ নং ব্লক তৃনমূল সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, তিনি ঘটনার কথা শুনেছেন। পুলিশ প্রশাসনকে দোষীদের গ্রেফতারের করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু দুস্কৃতি বহুদিন ধরে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। কিছুদিন আগে বহিরাগত দুস্কৃতি এনে তাদের দলীয় সমর্থকদের লক্ষ করে ও গ্রামে বোমাবাজি করেছে। প্রশাসন সজাগ থাকায় ওই দুস্কতিরা বড় কোন অঘটন ঘটাতে পারেনি বলে জানান তিনি।
জাকির বাবু আরও জানান, জেলা নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি দলের কর্মীদের রমজান মাস থেকেই শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের কর্মীরা গ্রামে শান্তি বজায় রেখে চলেছেন। তবে এলাকার কিছু দুষ্কৃতি সেই শান্তি নষ্ট করছে এবং এলাকায় অশান্তির বাতাবরন তৈরি করছে। তৃণমূল সমর্থকদের উপর হামলা চালাচ্ছে। এদিন তিনি পুনরায় তাদের দলীয় কর্মীদের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ করেন। এবং প্রশাসনের উপর আস্থা রাখতে বলেন। ঘটনার তদন্ত করছে গলসি থানার পুলিশ।
