Headlines
Loading...
উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলে জয়জয়কার পূর্ব বর্ধমানের

উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলে জয়জয়কার পূর্ব বর্ধমানের

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ বেশ কয়েকবছর পর আবারও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলে জয়জয়কার পূর্ব বর্ধমান জেলায়। এবারের ফলাফলে এই জেলাতেই রাজ্যের মেধা তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে মোট ৬ জন। তার মধ্যে কাটোয়া এবং কালনা মহকুমায় একজন করে মেধা তালিকায় ঠাঁই পেলেও বর্ধমানের মিউনিসিপ্যাল বয়েজ হাইস্কুল থেকেই এবারে উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলে ৩ জন ঠাঁই পেয়েছে। বর্ধমান টাউন স্কুল থেকে রাজ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে সায়ন্তন চক্রবর্তী।

 
বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল বয়েজ হাইস্কুলের ছাত্র তিমির বরণ দাস এবারে রাজ্যে যুগ্মভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯০। বাবা প্রদীপ দাস বর্ধমানের সামন্তি হাইস্কুলের অংকের শিক্ষক। মা তাপসী দাস গৃহবধু। ইতিমধ্যেই তিমির মেডিকেল সুযোগ পেয়েছে। তিমির জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সে জেনেটিক নিয়ে গবেষণা করতে চায়। কোনো বাঁধাধরা নিয়মের মধ্যে পড়াশোনা না করে যখনই ভাল লেগেছে তখনই সে পড়েছে। পড়াশোনার বাইরে গিটার বাজাতে, গোয়েন্দা গল্প পড়তে ভালবাসে। ভালবাসে ক্রিকেট খেলতেও। ভাল রেজাল্ট করার ক্ষেত্রে তার পরামর্শ সমস্ত বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে পারলেই ভাল রেজাল্ট করা সম্ভব। তার প্রিয় খাবার মাছ এবং বিরিয়ানী। প্রিয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিং। কারণ হিসাবে সে জানিয়েছে, যেভাবে ক্যানসারকে জয় করে আবার মাঠে ফিরেছে যুবরাজ, তাই তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তার প্রেরণা । প্রদীপবাবু জানিয়েছেন, আগাগোড়াই তিমির পড়াশোনা করতে ভালবাসে। অংকের বিষয়টি তিনি নিজে দেখলেও বাকি বিষয়ে তার গৃহশিক্ষক ছিল।

 
অন্যদিকে, রাজ্যের চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে এই স্কুলেরই ছাত্র অর্কদীপ গুঁই। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭। অর্কদীপের বাড়ি কাটোয়ার সুবোধ স্মৃতি রোডে হলেও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার জন্য বর্ধমানের ভাতছালায় দাদু অশোক দাসের কাছেই মানুষ হয়েছে। বাবা অমলকান্তি গুঁই পেশায় ব্যবসায়ী হলেও তিনি দুটি স্কুলে ভোকেশনাল কোর্সের শিক্ষকতাও করেন। মা রুণু গুঁই পূর্বস্থলীর একটি স্কুলের শিক্ষিকা। অর্কদীপের প্রিয় বিষয় বায়োলজি। সেও ইতিমধ্যেই মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে। ভবিষ্যতে ডক্টরেট অব মেডিসিন করার ইচ্ছা রয়েছে। অর্কদীপের প্রিয় খাবার ফ্রায়েড রাইস এবং চিলি চিকেন। পড়াশোনার বাইরে সে ক্রিকেট খেলতে ভালবাসে। ভালবাসে গান শুনতেও। গড়ে ১০-১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছে। মা রুণু গুঁই জানিয়েছেন, মাধ্যমিকে অর্কর ফলাফল খুব একটা ভাল না হওয়ার পর থেকেই তার মধ্যে একটা জেদ চেপে যায়।

 
এদিকে, রাজ্যের মেধা তালিকায় বর্ধমান মিউনিসিপ‌্যাল বয়েজ হাইস্কুল থেকেই নবম স্থান অধিকার করেছে অভীক ঘোষ। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮২। বাবা অনুপ কুমার ঘোষ সাব এ্যাসিস্ট্যাণ্ট ইনঞ্জিনিয়ার। কোচবিহারের মাথাভাঙায় রয়েছেন তিনি। ছেলের এই সাফল্যে তিনি ভীষণ খুশী হলেও ছেলের কাছে হাজির থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মা টুম্পা ঘোষ গৃহবধু। অভীকও মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে। তারও স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। অভীকের পাশাপাশি রাজ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে বর্ধমান টাউন স্কুলের ছাত্র সায়ন্তন চক্রবর্তী। বাবা দেবনাথ চক্রবর্তী বর্ধমান ডাকঘরের কর্মী। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৩। ভবিষ্যতে কমপিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় সে । মা তনুশ্রী চক্রবর্তী গৃহবধু।

অন্যদিকে কালনার অম্বিকা মহিষ মর্দিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সুরজিত মাতব্বর ৪৮২ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধা তালিকায় নবম স্থান অধিকার করেছে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});