
সৌরীশ দে, বর্ধমানঃ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বর্ধমান শহরে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে মহানায়ক উত্তম কুমার এবং মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পূর্ণাবয়ব মূর্তি। বর্ধমানের উত্তম-সুচিত্রা ফ্যান ক্লাবের উদ্যোগে বাম আমল থেকে বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে এবিষয়ে দাবীদাওয়া জানিয়ে আসার পর অবশেষে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে বলে ক্লাব সূত্রে জানতে পারা গেছে। আগামী ২৪ জুলাই উত্তম কুমারের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এব্যাপারে চূড়ান্ত ঘোষণাও হতে পারে বলে মনে করছেন ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা।
ক্লাবের সম্পাদক শরতচন্দ্র কোনার জানিয়েছেন, বাম আমল থেকেই তাঁদের এই ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে বর্ধমানে এই দুই মহানায়ক মহানায়িকাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দুটি মূর্তি বসানোর দাবী জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বাম সরকার এই বিষয়টি নিয়ে তেমনভাবে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১১ সালে এই ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফের এই আবেদন জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে গোটা বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন।
ক্লাবের সম্পাদক শরতচন্দ্র কোনার জানিয়েছেন, বাম আমল থেকেই তাঁদের এই ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে বর্ধমানে এই দুই মহানায়ক মহানায়িকাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দুটি মূর্তি বসানোর দাবী জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বাম সরকার এই বিষয়টি নিয়ে তেমনভাবে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১১ সালে এই ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফের এই আবেদন জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে গোটা বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন।

শরতবাবু জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেও, পরবর্তীকালে তাঁদের কিছুটা ঢিলেমীর জন্য এই কাজে দেরী হয়। সম্প্রতি তাঁরা পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এরপরই জায়গা চিহ্নিত করণের জন্য তিনি নির্দেশ দেন। শরতবাবু জানিয়েছেন, এরপরই জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি তাঁরাও এব্যাপারে জমি চিহ্নিতকরণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় ভিন্ন মতামতের জন্য। কেউ বর্ধমান ষ্টেশন, কেউ একদা কার্জন গেটের সামনে ম্যাণ্ডেলা পার্ক আবার কেউ সংস্কৃতি লোকমঞ্চের সামনের পার্ককে চিহ্নিত করেন। অবশেষে সংস্কৃতি মঞ্চের সামনের জায়গাকেই চুড়ান্তভাবে তাঁরা চিহ্নিত করে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা আশা করছেন খুব শীঘ্রই এব্যাপারে রাজ্য সরকার সবুজ সংকেত দিতে চলেছেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই কলকাতার টালিগঞ্জ মেট্রো ষ্টেশনের নামকরণ করা হয়েছে উত্তমকুমারের নামে। এমনকি রাজ্যের বিভিন্ন মনীষীদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একাধিক উদ্যোগও নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই বাংলার এই দুই মহানায়ক ও মাহানায়িকার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দ্যেশে বর্ধমান শহরে মূর্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও উৎসাহ দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বলেই মত ওয়াকিবহল মহলের।
যদিও এব্যাপারে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ বাগবুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ এসেছে জমি চিহ্নিত করার বিষয়ে। যেহেতু সংস্কৃতির সামনের পার্কটিতে ইতিমধ্যেই সিধু-কানহুর মূর্তি রয়েছে, তাই সেখানে ফের আরও দুটি মূর্তি বসলে তা ঘিঞ্জি আকার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সংস্কৃতির ভেতরে কোনো জায়গায় এই মূর্তি বসানো যায় কিনা, তা নিয়েও তাঁরা আলোচনা করছেন। খুব শীঘ্রই এব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে তাঁরা রিপোর্ট পাঠিয়ে দেবেন।
