Headlines
Loading...
পঞ্চায়েত নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমানকে বিরোধীশূন্য করতে দাপিয়ে বেরাল আতঙ্কিত শাসকদল

পঞ্চায়েত নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমানকে বিরোধীশূন্য করতে দাপিয়ে বেরাল আতঙ্কিত শাসকদল


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান:আতঙ্ক কাকে বলে তা আরও একবার প্রমান করল পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ। গত পাঁচ বছরে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেওয়ার পরেও আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের আটকাতে শাসকদল এবার যে পন্থা অবলম্বন করল, তা এক কথায় নজিরবিহীন। ২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া মনোনয়নপর্বের দিন থেকেই গায়ের জোরে বিরোধীদের হঠিয়ে দিয়ে আসন দখলের মরীয়া চেষ্টা চালাল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী সন্দেহে অগুনিত পুরুষ এমনকি মহিলাদেরও মারধোর করে মনোনয়নপত্র ছিঁড়ে দিয়ে তাড়া করে এলাকা ছাড়া করল তাঁরা। 

সব থেকে আশ্চর্যের বিষয়,সোমবার বর্ধমানের কার্জন গেট চত্বর থেকে বাদামতলা এবং টাউন স্কুলের দিকের রাস্তা কার্যত দুর্গে পরিণত করে রেখেছিলেন তৃণমূল আশ্রিত বহিরাগত দুষ্কৃতীরা। এদিন নেতা তথা প্রার্থীরা এতটাই আতঙ্কিত হয়েছিলেন যে সন্দেহের বসে খোদ দলের নেতা-কর্মীদেরও মার দিতেও কসুর করেনি। আর তারই ফলস্বরূপ এদিন দলীয় কর্মীদের কাছেই মার খেলেন জেলা পরিষদের গতবারের জয়ী এবং এবারও গলসী থেকে প্রার্থী নুরন্নেসা বেগম। একইভাবে মার খেয়েছেন অসংখ্য তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরাও। যা দেখে খোদ শাসকদলের অধিকাংশ নেতাই ছি ছি করলেন। কারণ হিসাবে অনেকেই জানালেন, নব্য তৃণমূলীদের পরিচালনা করার ক্ষমতা নেতাদের নেই। স্বাভাবিকভাবেই পরিণতি যা হবার তাই ঘটেছে। উন্নয়ন তো দূর, অনেক প্রার্থীই নিজের ছায়াকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না এবার।

সোমবার ছিল মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই এদিন সকাল থেকেই বর্ধমানের কার্জন গেট চত্বরে জড়ো হতে শুরু করে তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। বেলা যত বেড়েছে জমায়েত দ্বিগুন থেকে তিনগুন হয়েছে। মাছি গলবার জো ছিল না এদিন। আর যে কেউ এই চক্রব্যূহ ভেদ করে গলবার চেষ্টা করেছেন,তারই কপালে জুটেছে বেধড়ক মার। এর মধ্যে 'সেম সাইড' গোলের সংখ্যাই ছিল বেশি। অর্থাৎ তৃণমূলের হাতে মার খেতে হয়েছে তৃণমূলীদেরই। পুলিশ ছিল কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায়। মাঝে মধ্যে একটু আধটু তাবরা তাবরি যে করেনি তা অবশ্য নয়। এমনকি সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে যাবার সময় হুজ্জুতিকারি প্রায় ৮ জনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

 
এদিকে বিরোধীদের আনা তৃণমূলের সন্ত্রাসের অভিযোগের জবাবে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানিয়েছেন, বিরোধীরা প্রার্থীই দিতে পারছেন না তো তৃণমূল কি করবে। তিনি সন্ত্রাসের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কোথাও কোনো অত্যাচার বা মারধোর করা হয়নি। সবটাই বিরোধীদের বানানো গল্প।
অন্যদিকে এদিন দুপুর ৩টের পরই একাধিক ব্লক থেকে তৃণমূলের জয়ের খবর আসতে শুরু করে। পূর্ব বর্ধমান জেলার মোট ৫৮টি জেলা পরিষদের আসনের মধ্যে ১৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর মধ্যে বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার ১টি, বর্ধমান দক্ষিণ মহকুমার ৬টি এবং কাটোয়া মহকুমার ৬টি জেলা পরিষদ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
                                                                                                                  ছবি - সুরজ প্রসাদ 


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});