
অদিতি চট্টোপাধ্যায় : শীত এসে গেলো। প্রকৃতি নিজেকে আবার রঙিন করে তোলার সুযোগ পেয়ে গেলো। এখন আর শুধু সবুজ নয় - লাল,নীল,হলুদ,কালো আরো কত রঙের বাহার।
শীত মানেই সকালের প্রথম রোদে শরীর স্যাকা,শীত মানেই লেপের তলায় কুঁকড়ে থাকা।
শীত মানেই আরো নিবিড় হওয়া, শীত মানেই চড়ুইভাতি আর ঘুরতে যাওয়া।
শীত মানেই স্নান থেকে দূরে থাকা,শীত মানেই বাঁদর টুপি আর চাদরে মুড়ে থাকা।
শীত মানেই সকালের কুয়াশা,শীত মানেই নলেন গুড়ের রসগোল্লা।
শীত মানে পিঠে পুলি,শীত মানেই ঘুড়ি।
আসলে শীত যেন প্রচন্ড গ্রীষ্মে বাতানুকুলের অনুভূতি।

টানা গরম, আর তারপর অবিরাম বৃষ্টিতে নাকাল আমজনতার স্বস্তির ঋতু এই শীত। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পরেও শীত শরীর ও মনকে রাখে সতেজ।
এ এক অন্য অনুভূতি। শীতের মিষ্টি রোদ মাখা দিন ছোট হতে হতে ক্রমশ কম্বল-লেপে জড়ানো এক দীর্ঘ রাতে পরিণত হয়। কুয়াশা ভরা প্রাতঃভ্রমণে মাফলার, টুপি জড়ানো শীতের সকালে গরম চায়ে চুমুক দিয়ে কিছু গসিপ ও খবরের কাগজে চোখ বোলানোর অনুভূতি সত্যিই বড় রোমাঞ্চকর। ঘরের এককোনে বসে তাপ পোহানো, ঠোঁট ফাটা শুস্ক ত্বক, ছাদে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়ানো, রাতে তাড়াতাড়ি ঘরে ফেরার তারা - এই সবই যেন একমাত্র শীতেরই নমুনা।

কালী পুজোর রাত থেকেই হালকা শীতের আমেজ অনুভূত হলেও কনকনানি শীতের আবির্ভাব ঘটে মাঘ মাসে, আর তাইতো কথায় বলে মাঘের জারে মোষের সিং নড়ে। বছরভর যে গরম জামাকাপড়, সোয়েটার,মাফলার,টুপি যত্ন করে আলমারির কাবার্ডে রাখা থাকে, সেইসব আবার বেরিয়ে পরে শীতের আবির্ভাব কালে। ভ্রমণ পিপাসু মানুষ এই সময়টাকেই বেছে নেয় বেড়াতে যাওয়ার জন্য।
শীত মানে দিকেদিকে উৎসব আর মেলার আয়োজন,শীত মানে মাঠে ঘাটে খেলার তোড়জোড়।
শীত মানে বড়দিন, শীত মানে নবান্ন।
শীত মানে নতুন প্রেম - সরস্বতী পুজো আর ভ্যালেন্টাইন ডে।

দেখতে গেলে শারদ উৎসব পেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে শুরু করে দোল উৎসব পর্যন্ত শীতের আমেজ আমাদের গায়ে লেগে থাকে। তাই কথায় কথায় বলাই যায় "শীত আসে উৎসবের মধ্যে দিয়ে,যায় বছরকার উৎসবকে রঙিন করে দিয়ে।

