ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান : বুধবার সকালে সিপিএমের ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন মজুরী বৃদ্ধির দাবীতে পূর্ব বর্ধমানের ২নং ব্লকের প্রায় ৪টি গ্রামে বর্ষার চাষ বন্ধ করে দেওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গোটা রাজ্যে যেখানে কার্যত সিপিএমকে সাইনবোর্ডে পরিণত করার কথা বলেন শাসকদলের নেতারা সেই সিপিএমই খোদ শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানের চাষ বন্ধ করে দেওয়ায় ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে সিপিএমের ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন মজুরী বৃদ্ধির দাবীতে এই চাষ বন্ধ করার ঘটনায় ক্ষীপ্ত এলাকার চাষিরা বুধবার সকাল থেকে বর্ধমান-কালনা রোড প্রায় কয়েক ঘণ্টা অবরোধ করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় মেমারী থানার পুলিশ, বর্ধমান জেলা পরিষদের অতিরিক্ত জেলাশাসক বাসব বন্দোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ গার্গী নাহা, বর্ধমান ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অম্বিকা যশ, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি শ্যামল দত্ত প্রমুখরাও। এলাকার চাষী পতিতপাবন সাঁই, নীলরতন সাঁই প্রমুখরা অভিযোগ করেছেন, সিপিএমের কৃষকসভার ডাকে নবস্থা গ্রাম পঞ্চায়েতের আউশা,বেগুট,বুদপুর প্রভৃতি এলাকায় মজুরী বৃদ্ধির ডাক দেওয়া হয়েছে। কৃষকসভার দাবী ১৭০ টাকা নগদ ও ২ কেজি চাল দিতে হবে,অন্যথায় কোনো শ্রমিককেই কাজ করতে দেওয়া হবে না।
চাষীরা জানিয়েছেন, এই অবস্থায় গোটা এলাকার প্রায় ১৬ হাজার বিঘে খরিফ চাষ রোয়ার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। তাঁরা জানিয়েছেন,এব্যাপারে তাঁরা বারবার স্থানীয় বিধায়ক থেকে প্রশাসনের সমস্ত স্তরে জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই এদিন চাষীরা রাস্তা অবরোধ করেছেন।
এব্যাপারে সিপিএমের ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের জেলা সম্পাদক গণেশ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত মজুরীর তুলনায় তাঁরা আলোচনা করে অনেকটাই নগদ মজুরীর পরিমাণ কম দাবী করেছেন। কারণ বর্তমান সময়ে এই অর্থ ছাড়া কোনো ভাবেই একটি পরিবারের চলা সম্ভব নয়। তাঁরাও চান আলোচনা করেই সমস্যার সমাধান। কিন্তু নবস্থা অঞ্চলের কিছু চাষী এখনও অনড় মনোভাব দেখানোয় সেখানে আন্দোলন চলছে।
অবরোধকারীরা এদিন দাবী করেছেন যারা ক্ষেত মজুরদের বিভ্রান্ত করে এই চাষ বন্ধ রেখে চাষীদের ক্ষতি করছে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।

