ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক: পুরানে আছে কৃষ্ণ বাঁশি বাজালে মেয়েরা বেরিয়ে আসতো।
সময়ের কি পরিহাস ! এখন পৌরসভার ময়লা তোলার গাড়িওয়ালা বাঁশি বাজালে বাড়ির বউরা বেরিয়ে আসেন। নিত্যদিনের রোজনামচা। সকালে চোখ খুললো কি খুললো না , বাঁশি বাজবেই। আর আয়েস করার সময়টুকুও পাবেন না গৃহকর্ত্রী। মুখে চোখে জল না দিয়েই ছুটতে হবে সারাদিনের জমে যাওয়া নোংরা ফেলার জন্য। কারণ গোঁজাওয়ালা যে আরও ব্যাস্ত , তার দাঁড়াবার সময় নেই। চলে গেলেই মুশকিল। কে ফেলবে, কোথায় ফেলবে বাসি দুর্গন্ধ যুক্ত সেই গোঁজা। এই গোজা ফেলা নিয়েই কত সংসারে কত অশান্তি। কেই বা তার খোঁজ রাখে !
যত অসুবিধাই থাক , কিংবা শরীর খারাপ গৃহিণীদের কাজ যেন বাঁধাধরা। রুটিন তৈরী করা আছে। সময় অনুযায়ী করে যাও। করলে ভালো , না করলেই 'লাটসাহেবদের' সমালোচনা। সকাল থেকে রাত , রাত থেকে সকাল উদয়ান্ত পরিশ্রম করার পর ভোরের দিকে ঘুমটা একটু গারো হয় বৈকি। কিন্তু ওই শ্যামের বাঁশি যেন রোজ সব ওলোট পালট করে দেয়।
আগে ছিল একরকম, যত্রতত্র প্রচুর ফাঁকা জায়গা ছিল। ফেলে দিলেই হলো। দিন পাল্টেছে। সমাজের মানুষ পরিবেশ বান্ধব হয়েছে। মানুষের প্রয়োজনেই তৈরী হয়েছে পদ্ধতি। কিন্তু সরকারের সংসার আর ঘরের সংসার তো এক নয়। সরকারের কাজ করার জন্য মাইনে দেওয়া লোক থাকে। এখানে তো তা নয়। এখানে তুমিই সরকার। পার্থক্য একটাই , সরকার হুকুম দেয়। আর সংসারে গৃহিণীকে অন্যের হুকুম মেনে চলতে হয়।
তবু বিরাম নেই। নোংরা তোমায় ফেলতে হবেই।

