Headlines
Loading...
ডিম শিল্পী প্রসেনজিতের শিল্পকলায় মেন্ডেলা থেকে মমতা।

ডিম শিল্পী প্রসেনজিতের শিল্পকলায় মেন্ডেলা থেকে মমতা।


পল্লব ঘোষ,কালনা :স্বাধীনতার দিনই হোক বা বছরের বাকি তিনশো চৌষট্টী দিন। ভোজন রসিক প্রসেনজিতের পাতে ডিমের কোন পদ নেই এমনটা ভাবলে বাড়ির লোক থেকে শুরু করে আঁতকে ওঠে স্বয়ং প্রসেনজিতও। তার কথায় ডিম নিয়ে যতই বিতর্ক হোক, আমি ডিম ছাড়া বাঁচতে পারবো না।
কালনার শ্যামগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা প্রসেনজিত দাস। পেশায় এক বেসরকারী সংস্থার কর্মী। স্বাধীনচেতা এই ছেলের ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি খুব ঝোঁক ছিলো। বেশ কয়েক বছর আঁকাআঁকি চলার পর তার মনে হলো যদি বিকল্প কোনো বিষয়ের ওপর কাজ করে নিজের শিল্পকলাকে ফুটিয়ে তোলা যায় তবে মনে হবে জীবনে কিছু একটা করেছি। 
আর এইখানেই প্রসেনজিতের পছন্দের ডিম হয়ে গেলো তুরুপের তাস। তারপর থেকে শুরু হয়ে যায় ডিমের খোলার ওপর ছুরি ও ছোট্ট ড্রিল মেশিন দিয়ে নিজের সৃষ্টি কে ফুটিয়ে তোলার একান্ত প্রয়াস।সাফল্যটা মিলে যায় বিশে মার্চ দু হাজার ষোলো সালে। ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডে নাম ওঠে প্রসেনজিতের । 
তার সাফল্য পেতে নষ্ট হয়েছে বহু মূল্যবান সময় আর অবশ্যই বহু ডিম। এখন তার বাড়িতে গেলে প্রায় দুশো ডিমের ওপর বিভিন্ন হাতের কাজের নির্দশন দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে কে নেই।নেলশন মেন্ডেলা থেকে মান্না দে ,রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলেই স্থান পেয়েছেন।


স্ত্রী চম্পা দাস বলেন,ডিম অন্ত প্রাণ স্বামীর। কাজের ফাঁকে সময় যেটুকু পায় ডিমেই ডুবে থাকে সে। সৃষ্টিশীল এই শখের কাজে ধৈর্য আর মনোসংযোগ করতে হয় যে প্রচুর। 
আর প্রসেনজিত বাবুর সহাস্য যুক্তি যত কাজ করবো তত ডিমের প্রয়োজন পরবে,আর অনেক ডিম লাগা মানেই আমায় অনেক ডিমও খেতে হবে।ডিম থেকে কুসুম বের করে নিয়ে খোলা ধুয়ে,শুকিয়ে তবেই জোগাড় হয় আমার শখের রসদ। 
                                           ছবি - শুভদীপ চ্যাটার্জী 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});