ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বাঁকুড়া : এতদিন আমরা অবিবাহিত অসহায়,গরিব বিবাহযোগ্য পুরুষ মহিলাদের গণবিবাহের কথা শুনে এসেছি। কিন্তু আস্ত একটা গ্রাম এক বৃদ্ধ দম্পতির বিবাহের ৫০বছর পূর্তির বিবাহবার্ষিকী পালন করেছে এমন ঘটনা শোনা যায়নি। তবু এটাই সত্যি। এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকলেন বাঁকুড়ার তালডাংরার কেশাতরা গ্রামের কয়েকশো গ্রামবাসী।
গতকাল রাতে মহা ধুমধাম করে আয়োজন করা এই দাদু দিদিমার বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পাড়া প্রতিবেশী থেকে গ্রামের প্রায় পাঁচশো মানুষ নিমন্ত্রিতও ছিলেন।পুরোদস্তুর নিয়ম মেনে মালা বদল,সিঁদুর দান ,শুভদৃষ্টি কিছুই বাদ যায়নি ৮১ বছরের দাদু আর ৭০ এর কোঠায় আসা দিদিমার এই পুনর্বিবাহের অনুষ্ঠানে। রীতিমতো তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছেন এই প্রজন্মের কচিকাঁচা থেকে আমন্ত্রিত গ্রামের সমস্ত পুরুষ মহিলারা।
সেই কবে বিয়ে হয়েছিল খাতড়ার কাশিপুরের মেয়ের সঙ্গে, তা আজ বয়সের ভারে ঠিক করে মনেও পরে না কেশাতরা গ্রামের রতন চন্দ্র মিশ্রের।নাতি নাতনীরাই জোর করে এইসব করে বসেছে। গতকালের অভিজ্ঞতা কেমন বলতে গিয়ে রতন দাদু বললেন, বহু বছর ধরে গ্রামের মোড়ে পানের দোকান চালাই।দুবেলা গ্রামের মানুষের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয়।এই গ্রামের সবাই আমাদের খুব সন্মান করে আর ভালোও বাসেন। তাই ওরা যখন জেদ করলো আমাদের কি আর করার আছে। ওদের খুশিতেই আমাদের আনন্দ। কটা দিনই বা আর থাকবো, ওদের ইচ্ছাটাই তাই পূরণ করলাম।
কেশাতরা গ্রামের বাসিন্দা কালিপদ সিংহ মহাপাত্র ,গণেশ চন্দ্র সৎপতি বাবুরা জানালেন, রতন দাদুর ৫০ বছর বিবাহবার্ষিকীর আয়োজন করে আমরা ধন্য।এই গ্রামের প্রবীণ মানুষ উনি। সুখে দুঃখে উনি সবার পাশে থেকেছেন এতকাল। এটা ওনাদের জন্য তাই এই ছোট্ট উদ্যোগ আমাদের।
কালীপদবাবুরা আরও জানালেন ,ঠিক যেমন ভাবে নতুন দম্পতিদের বিবাহঅনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়, তেমন ভাবেই দাদু দিদিমার বিবাহবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। পাড়ার ও গোটা গ্রামের প্রায় পাঁচশো মানুষকে নিমন্ত্রণ করে চা মিষ্টি খাওয়ানো হয়েছে। রাতে সবার জন্য খিচুড়ি,তরকারি,চাটনি,মিষ্টিরও আয়োজন করা হয়েছিল।
গ্রামবাসীরা বলেছেন,দাদু দিদা একশো বছর বাঁচুক , আমরা আবার তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করে ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করবো।


