Headlines
Loading...
আসছে বন্ধু দিবস। জেনে নি দুই বন্ধুর অমর কথা।

আসছে বন্ধু দিবস। জেনে নি দুই বন্ধুর অমর কথা।

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্কঃ এক সপ্তাহ বাদেই আসছে বন্ধু দিবস। অনেকেই হয়তো সেদিন ঘটা করে বন্ধু দিবস পালন করবেন। তার আগে বলিউডের দুই তারকার বন্ধুত্বের গল্প জেনে নেওয়া যাক।
বলিউডের ঝকমকে দুনিয়ায় বন্ধুত্ব নাকি খুব বেশি দিন টেকে না। কিছুদিন আগে ভারতীয় অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি বলেছিলেন, ‘বলিউডে সবকিছুই চলে লেনদেনের ভিত্তিতে।’ তাঁর কথা পুরোপুরি ভুল নয়। তবে বলিউডে এমন কিছু সম্পর্কও আছে, যা শুধু স্বার্থের জন্য তৈরি হয়নি।
বিগ 'বি’ অমিতাভ বচ্চন ও শশী কাপুরের পরিচয় সত্তরের দশকে। একসঙ্গে খুব মধুর কিছু স্মৃতিও রয়েছে তাঁদের। শশী যখন বলিউডে প্রতিষ্ঠিত, অমিতাভ তখন মুম্বাইয়ে জীবন চালিয়ে নেওয়ার মতো ছোটখাটো একটা কাজ খুঁজছেন। পরে অবশ্য ‘বিগ বি’-এর জনপ্রিয়তা শশীকে ছাপিয়ে গেছে। কিন্তু দুজনের বন্ধুত্বের সম্পর্কে কখনোই ভাটা পড়েনি।
অমিতাভ বচ্চন বছর খানেক আগে নিজের ব্লগে শশী কাপুরের সঙ্গে তাঁর কিছু স্মৃতি লিখেছিলেন। এই দুই তারকা একসঙ্গে ‘শান’, ‘রোটি, কাপড়া, মাকান’, ‘দিওয়ার’, ‘কাভি কাভি’, ‘সিলসিলা’, ‘ত্রিশূল’, ‘নমক হালাল’সহ বেশ কিছু আলোচিত ছবিতে কাজ করেছেন। সত্তরের শুরুর দিকে একবার অমিতাভের খুব টাকার প্রয়োজন হলো। তখনো তিনি ‘বিগ বি’ হয়ে ওঠেননি। শশী কাপুর অভিনীত এক ছবিতেই জুনিয়র আর্টিস্ট বা ‘এক্সট্রা’ হওয়ার প্রস্তাব এল তাঁর কাছে। অমিতাভ কাজ করতে রাজি হয়ে গেলেন। কারণ, তাঁর কাছে তখন চরিত্র নয়, টাকাটাই মুখ্য। যথারীতি অমিতাভ ছবির শুটিংয়ে গেলেন। দৃশ্যটা ছিল এমন, শশী কাপুর মারা গেছেন। চিতায় তাঁর লাশ তোলা হয়েছে। সামনে অনেক মানুষ তাঁর সৎকারের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। এই ভিড়ের মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ‘বিগ বি’। এ জন্য তাঁকে অগ্রিম ৫০০ রুপি দেওয়া হয়েছিল। শট শেষ করার পর হঠাৎ শশীর নজরে পড়েন অমিতাভ। তিনি অমিতাভকে হাত ধরে ভিড়ের মধ্য থেকে টেনে বের করেন। বলেন, ‘এই রকম ছোটখাটো চরিত্রে আর কখনোই কাজ করবে না। আরও বড় কিছু করার ক্ষমতা তোমার আছে।’ এরপর পরিচালককে বলে শশী কাপুর অমিতাভের শুট করা সেসব দৃশ্য ছবি থেকে বাদ দেন।
মুম্বাইয়ে অভিনেতা হিসেবে যাত্রা শুরুর আগেই শশীর সঙ্গে অমিতাভের পরিচয় ছিল। এই পরিচয় শশীর শ্বশুর জেফরি কেন্ডালের সূত্রে। জেফরি ছিলেন একজন ইংরেজ অভিনেতা ও থিয়েটার ব্যবস্থাপক। তিনি তাঁর নাট্যদল নিয়ে ভারতেও আসতেন। সেভাবেই অভিনয়ে আগ্রহী অমিতাভের সঙ্গে তাঁর জানাশোনা। আর তাঁর বড় মেয়ের জামাতা শশীর সঙ্গে আলাপ। অমিতাভের অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে শশী কাপুর তাঁর সব পরিচালকের সঙ্গে অমিতাভকে পরিচয় করিয়ে দিতেন। ১৯৭৫ সালে ‘দিওয়ার’ ছবিতে অমিতাভ ও শশী দুই ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। যশ চোপড়া পরিচালিত এই ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর দিন শশী ও অমিতাভ পাশাপাশি বসে ছিলেন। বাকিটা অমিতাভের লেখা থেকে তুলে দেওয়া হলো, ‘সিনেমা চলাকালে আমরা কেউ একটা শব্দও উচ্চারণ করিনি। কিন্তু যখন ব্রিজের নিচে ‘‘মেরে পাস মা হ্যায়’’ সংলাপ দেওয়ার দৃশ্যটি পর্দায় ভেসে উঠল, আমি আমার হাতের ওপর আরেকটা হাতের স্পর্শ অনুভব করলাম। এটা ছিল শশীজির হাত। তিনি আমাকে মুখে কিছুই বলেননি। কিন্তু তিনি আমার হাত যেভাবে ধরেছিলেন, তা-ই সব বলে দিয়েছিল আমাকে। সেই স্পর্শে ছিল তাঁর স্নেহ, তাঁর স্বীকৃতি, তাঁর প্রশংসা। যে ভদ্রলোকের (শশী কাপুরের) ছবিতে এই ছেলে একদিন (অমিতাভ) ‘‘এক্সট্রা’’ হয়েছিল, আজ সে তাঁর পাশের আসনে বসে আছে। তখনকার এক সংগ্রামী অভিনেতার জন্য বিষয়টা ছিল স্বপ্নের মতো।’
শশী কাপুর বয়সে অমিতাভের পাঁচ বছরের বড়। এই অভিনেতার পাশে তিনি সব সময় বন্ধু ও বড় ভাইয়ের মতোই ছিলেন। পরে অবশ্য এই দুই তারকার সম্পর্ক আত্মীয়তায় মোড় নেয়। অমিতাভের একমাত্র মেয়ে শ্বেতা নন্দার শাশুড়ি রিতু নন্দা শশী কাপুরের আপন ভাতিজি। অমিতাভ-শশীর হৃদ্যতা আজও অমলিন।
                                                                                                    তথ্য সূত্র: বলিউড বাবল
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});