Headlines
Loading...
বর্ধমানের সায়নী রাজ্যে উচ্চশিক্ষায় কন্যাশ্রী -৩ চালুর মূল কারিগর।

বর্ধমানের সায়নী রাজ্যে উচ্চশিক্ষায় কন্যাশ্রী -৩ চালুর মূল কারিগর।

সৌরীশ দে,বর্ধমান :  মুখ্যমন্ত্রীর সাধের কন্যাশ্রী আজ বিশ্বশ্রী। এতদিন এই বাংলায় কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে আসছিলো কেবলমাত্র স্কুলস্তরের ছাত্রীরা। এবার এখন থেকে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন স্কুলের গন্ডি ছাড়িয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া ছাত্রীরাও।গত শুক্রবার নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কন্যাশ্রী দিবসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় উচ্চশিক্ষায় ৪৫ শতাংশ নাম্বার পাওয়া ছাত্রীদের উৎসাহ বাড়াতে কলা বিভাগের জন্য ২০০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ২৫০০ টাকা প্রতি মাসে স্কলারশিপ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পিছনে কার অবদান আছে, তা তো রাজ্যবাসীর জানা দরকার। 
কেনই বা কিংবা কোন পরিস্থিতিতে এই ঘোষণা সেটা তো কে - ৩ প্রাপকদের জেনে রাখতে হবে। কারণ আগামী দিনে কন্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হলে কে -৩ শুরুর বিষয় অবশ্যই আলোচিত হবে। 
গত ২৯ জুন বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে প্রশাসনিক বৈঠকে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।  ওই সভাতেই তিনি ডেকে পাঠিয়েছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের। তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন কি কি তাদের অসুবিধা হচ্ছে? 
 বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন স্টাডিজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী বর্ধমানের মন্তেশ্বরের বাসিন্দা সায়নী রায় বুকে সাহস এনে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন, স্কুলস্তরের কন্যাশ্রীর মতই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি যেন কিছু করেন। যেমন বলা তেমন কাজ। সংস্কৃতি লোকমঞ্চের সেই সভাতেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, স্কুলস্তরের কন্যাশ্রী ১ ও ২-এর মত এবার তাহলে চালু হোক বিশ্ববিদ‌্যালয় স্তরের কন্যাশ্রী-৩। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচীবকে ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবারও  নির্দেশ দেন তিনি। তারপর মাস ঘুরতে না ঘুরতেই বর্ধমানের সায়নীর আবেদনের দৌলতে রাজ্যের কয়েক লক্ষ  উচ্চশিক্ষার ছাত্রী পেয়ে গেলো হাতে 'চাঁদ'।  
স্বাভাবিকভাবেই যখন কালনার ইংলিশ চ্যানেল জয়ী এক সায়নীর গর্বে ভেসে যাচ্ছে গোটা বর্ধমান তখন বর্ধমানেরই আরেক সাহসী কন্যা মন্তেশ্বরের সায়নীর এই কৃতিত্বে গর্বে ও আনন্দে ভাসছে রাজ্য সহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর আত্মীয়স্বজনরাও। কারণ সায়নীর একটা আবেদনে গোটা বাংলার হাজার হাজার ছাত্রী উপকৃত হবেন। 
সায়নীর বাড়ি মন্তেশ্বরে হলেও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হোষ্টেলে থেকেই সে পড়াশোনা করছে। বাবা সত্যজিত রায় একজন সাধারণ হার্ডওয়ারের ব্যবসায়ী। ভাই সৌনক রায় এবছরেই কলকাতায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই উচ্চশিক্ষার খরচ টানতে সত্যজিতবাবুর চাপ বাড়ছেই। সায়নী জানিয়েছে, ''উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাতে না পেরে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তো এই অবস্থায় মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয় বাবা মায়েরা।   ইচ্ছা থাকলেও বাধ্য হয়েই অনেক সময় মেয়েদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছেড়ে বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। সে জানিয়েছে, আশপাশের বন্ধু,অন্য মেয়েদের দেখে এই আর্থিক অস্বচ্ছলতার যন্ত্রণাই তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। তাই যখন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাবার সুযোগ এল তখন এই সুযোগ ছাড়িনি।  শেষ পর্যন্ত দিদিকে বলেছি - কিছু একটা করুন।'' দিদি কথা রেখেছেন। সায়নী জানিয়েছে, ''সুযোগ পেলে দিদিকে একটা প্রণাম করে আসব আমার আবেদন মঞ্জুর করার জন্য।'' 
বৃহস্পতিবার কন্যাশ্রী দিবসে এই ঘোষণার পরই সায়নীর হোষ্টেলের বন্ধুরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। শুভেচ্ছা জানিয়েছে অধ্যাপকরাও। এর সঙ্গে তার আত্মীয়স্বজনরাও ফোনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিমাই সাহা জানিয়েছেন, সায়নীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিই গর্বিত। তার জন্য আজ বাংলার অসংখ্য ছাত্রীর ভবিষ্যত খুলে গেল। সায়নী আজ বাংলার গর্ব। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});