ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কোতলপুর,বাঁকুড়া : স্কুলে ভূত আছে। এই গুজব বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই বাঁকুড়া জেলার কোতুলপুর ব্লক অন্তর্গত মির্জাপুর গ্রামের মির্জাপুর হাইস্কুলে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। স্কুলের ছাত্রীদের শৌচালয়ে প্রেতাত্মার উপস্থিতি ও ছাত্রীদের উপর তার ভর করা নিয়ে ছাত্রী এবং অভিভাবক মহলে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়. ধীরে ধীরে তা গন-হিস্টিরিয়া রুপ নেয়। স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী শম্পা কুন্ডু গত শুক্রবার স্কুলের শৌচাগারে গিয়ে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখান থেকে বাকি ছাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শম্পার পরিবার চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাসুদেবপুরের স্থানীয় মহিলা ওঝার কাছে যান। ওঝা পরিস্কারভাবে জানিয়ে দেয় যে, একটি দুষ্ট প্রেতাত্মা শম্পার ওপর ভর করে এবং ঐ প্রেতাত্মার বাস মির্জাপুর হাইস্কুল। ঘটনাচক্রে এই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর একটি ছাত্র, সঞ্জয় সাঁতরা আজ থেকে দেড় মাস আগে আত্মহত্যা করে। তার বন্ধুদের দাবি 'স্কুলকে ভালোবাসার কারণে তার আত্মা আজও স্কুলে রয়ে গেছে'। এইসব মিলিয়ে বর্তমানে স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবক মহলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর জটিল হয়ে দাঁড়ায়।এমন জটিল পরিস্থিতিতে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহানন্দ কুন্ডু যোগাযোগ করেন 'ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি'র সঙ্গে। সমিতির পক্ষ থেকে রামকৃষ্ণ চন্দ, চিন্ময় মন্ডল, অনিকেত রায় ও নিবেদিতা দে আজ মির্জাপুর স্কুলে পৌঁছয় সকাল দশটা নাগাদ। তাঁরা স্কুল পরিদর্শন করেন এবং স্কুলে কু-সংস্কার বিরোধী ও বিজ্ঞান সচেতনতামূলক একটি অনুষ্ঠান প্রদর্শন করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোতুলপুরের বি.ডি.ও, থানার ও.সি, সর্বশিক্ষা মিশনের প্রকল্প আধিকারিক, ব্লক লেডি কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত প্রধান, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, পার্শ্ববর্তী স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক সহ প্রায় হাজার খানেক ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রায় দুঘন্টা ব্যাপি এই অনুষ্ঠানে অভাবনীয় সাড়া মেলে। ছাত্র-ছাত্রীরা একজোট হয়ে এই কু-সংস্কার দূরীকরণ অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানায় এবং কু-সংস্কার বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদেরকে যুক্ত করে। তারা এও জানায় ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো গুজবকে তারা প্রশ্রয় দেবে না।
অনিকেত রায় জানিয়েছেন, ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সাথে আলোচনায় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এই ধরণের গুজব ও কু সংস্কার ছড়িয়ে স্কুলে অশান্তি সৃষ্টির জন্যে বাদুদেবপুরের গুনিনের বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান হয়েছে ।তবে ওই মহিলা ওঝাকে এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তারের কোনো খবর নেই।যদিও সমিতির পক্ষ থেকে ওই ওঝার সাথে দেখা করলে সে নিজের ঘরে বসে জোরের সঙ্গে দাবি করেন যে সে শম্পার ভুত ছাড়িয়েছে।আমরা এই পরিস্থিতিতে ওই ওঝাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে।

