
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ অফিস টাইমের ব্যস্ত সময়। স্থান বর্ধমান কোর্ট কম্পাউন্ড। কাতারে কাতারে স্কুল পড়ুয়া, অফিসযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ ছুটে চলেছে গন্তব্যের দিকে। হঠাৎই টিনের ওপর লাঠি দিয়ে বেদম মারের দড়াম দড়াম আওয়াজে হকচকিয়ে যাচ্ছেন পথ চলতি মানুষ। বর্ধমানের কোর্ট কম্পাউন্ড চত্বরে এই ধরণের আওয়াজ শুনতে নিত্যযাত্রীদের অনেকেই এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু কেন এই আওয়াজ? কারাই বা করছে এই আওয়াজ?
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রশাসনিক এই চত্বরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা খোদ পুলিশ আধিকারিক থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার প্রত্যেকে যাত্রীদের কথা না ভেবে নিয়মবহির্ভুত ভাবে যাতায়াতকারী টোটো গুলির ওপর লাঠি নিয়ে রীতিমতো ভাঙচুর চালাচ্ছে প্রায় প্রতিদিন। ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে গাড়ির হেড লাইট আবার কখনও ইন্দিকেতর। আর হটাৎ হটাৎ এই ভাঙচুরের ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কিত ও বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ছেন টোটোতে যাতায়াতকারী যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, যদি নিয়ম ভেঙে টোটো গুলি যাতায়াত করে তাহলে সেই সব গাড়ি আটক করে জরিমানা বা আইনি পদক্ষেপ করতেই পারে প্রশাসন। তাবলে এই ভাবে যখন তখন পুলিশ মোটা মোটা লাঠি নিয়ে কখনো যাত্রী সমেত টোটোয় আবার কখনো যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করবে সেটা কতটা আইনভুক্ত। ইতিমধ্যেই এই ভাঙচুরের ঘটনায় বেশ কয়েকবার জনতার বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছে কর্তব্যরত পুলিশকে। এমনকি অসুস্থ রোগীকেও টোটো থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই কর্তব্যরত পুলিশের বিরুদ্ধে।

সাধারন যাত্রীদের আরও অভিযোগ, কেনই বা শুধুমাত্র দিনেরবেলায় ১০ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত এই জনবহুল এলাকায় অতিসক্রিয় থাকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনকারী এই অফিসারেরা? কেন সারাদিন বা বিকেলে অথবা সন্ধ্যায় এই রাস্তাতেই যখন এই টোটোগুলো নিয়ম ভেঙ্গে সাধারন মানুষের অসুবিধার কারন হয়, তখন কেন এই ট্রাফিক পুলিশদের দেখতে পাওয়া যায় না? তাদের প্রশ্ন, তাহলে কি যানজট নিয়ন্ত্রন, বা নিয়মের কড়াকড়ি কেবল অফিস টাইমে প্রসাসনিক আধিকারিকদের কাছে বাহবা নেবার জন্যই!
যদিও ট্রাফিক এর দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিক চিন্ময় মুখারজি জানিয়েছেন, কোর্ট কম্পাউন্ড বা প্রশাসনিক এই চত্বরে টোটো চলাচল নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে জেলাশাসকের নির্দেশিকাও রয়েছে। তবু সব জেনেশুনেও বেআইনি ভাবে টোটো চালকরা বাড়তি লাভ তুলতে এই রাস্তায় এসে যানজটের সৃষ্টি করে। পুলিশ আইন মেনেই গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাকে যানজট মুক্ত করতে কাজ করে চলেছে।
