
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ মেয়ের আব্দার মেটাতে পারেননি বাবামা। আর বাবা মার প্রতি অভিমান বশত সরাসরি থানায় এসে হাজির বছর ছয়ের এক নাবালিকা। সাইকেল নিয়ে সরাসরি বর্ধমান থানায় হাজির হয়ে সামনেই থাকা এক পুলিশ কর্মীকে তাঁর আব্দার – তার বাবা মা নেই। তাকে একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। আর ছোট্ট এই মেয়েটির এহেন আব্দার শুনেই রীতিমত চমকে উঠলেন বর্ধমান সদর থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মীরাও। একে একে সকলেই তখন উৎসুক মেয়েটির বক্তব্য জানতে। বিস্ময়ের ঘোর কাটে বেশ কিছুক্ষণ পর। হাতে চকোলেট আর মিষ্টি দেওয়ার পর আসল সত্যি কথাটা সে প্রকাশ করে ফেলে। বাবা-মার প্রতি তার অভিমান থেকেই যে সে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পড়েছিল তাও স্বীকার করে। যদিও প্রথমে অবশ্য মুখ খুলতে চায়নি খুদে মেয়েটি।
পুলিশকে সে জানায়, বাবা-মা বাড়িতে আছেন। কিন্তু, তাঁরা বকাবকি করেছেন। সে জন্য বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে সে থানায় নালিশ জানাতে এসেছে। আসল কথা জানার পর বিস্ময় কাটে পুলিশকর্মীদের। ভাব জমিয়ে বালিকার কাছ থেকে তার বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর জেনে নেওয়া হয়। তারপর তার বাবা-মাকে ফোন করে থানায় আসতে বলা হয়। বাইরে থাকায় তার বাবা আসতে পারেন নি। পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে ওই বালিকার মা থানায় আসেন। মেয়েকে থানায় দেখে তিনি কাঁদতে শুরু করেন। বর্ধমান থানার আইসি ওই বালিকার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার কথা তাঁর কাছ থেকে শোনেন। তারপর মুচলেকা দিয়ে মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান মা।
থানার এক অফিসার বলেন, ওই বালিকার বাড়ি শহরের গোলাপবাগ এলাকায়। সে শহরের একটি ইংরাজি মাধ্যম স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। এদিন সকালে সে কিছু কিনে দেওয়ার জন্য বলে। কিন্তু, বাড়ি থেকে তা কিনে দেওয়া হয়নি। তাকে নিজে কাজ করে জিনিস কেনার কথা বলা হয়। তার থেকেই অভিমানে মেয়েটি থানায় এসে বাবা-মায়ের নামে নালিশ জানাতে চায়। ওইটুকু বাচ্চা মেয়ে প্রথমে বাবা-মা নেই বলেছিল। এটা খুবই ভাবনার বিষয়। এতটুকু মেয়ে জিনিস না কিনে দেওয়ায় থানায় এসে মিথ্যা কথা বলে বাবা-মায়ের নামে নালিশ করতে আসছে। মেয়েটি জিনিস না পেয়ে হয়ত আঘাত পেয়েছে। তবে, তার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে আসবে এটা ভাবা যায়না। মেয়েটির মা অবশ্য ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। তিনি বলেন, আজকালকার ছেলে-মেয়ে। সবই তো বুঝছেন। কখন যে কি করে বসে তা বোঝার সাধ্য কার?
