Headlines
Loading...
এবার বাঁকুড়ায় নীল তিমির হানা,পুলিশ ও পরিবারের হস্তক্ষেপে বাঁচলো একাদশ শ্রেণীর ছাত্র।

এবার বাঁকুড়ায় নীল তিমির হানা,পুলিশ ও পরিবারের হস্তক্ষেপে বাঁচলো একাদশ শ্রেণীর ছাত্র।

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বাঁকুড়া:  এবার নীল তিমির হানা বাঁকুড়া শহরে। অল্পের জন্য প্রানে বাঁচল শহরের খ্রিষ্টান ডাঙ্গার বাসিন্দা ও একাদশ শ্রেনীর ছাত্র শুভদীপ আলি। পরিবারের সদস্য ও পুলিশের তৎপরতায়  এ যাত্রায় বড়োসড়ো দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেলো ছাত্রটি বলে সকলের মত। 
শুভদীপ বাঁকুড়া খ্রিষ্টান কলেজয়িট স্কুল থেকে এবছরই ৩২৩ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাশ করে সদ্য একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি হয়েছে। ছাত্রটির কাকা জাভেদ আলি জানিয়েছেন, ইদানিং শুভদীপ মোবাইলে আশক্ত হয়ে পড়েছিল। তাকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২৩ ঘন্টাই   মোবাইলে ব্যস্ত থাকতে দেখা যেত।এনিয়ে সে কারোর আপত্তি শুনত না।এমনকি স্কুলে যাওয়া ও পড়াশুনায় তার মন ছিল না। বাড়িতে এই নিয়ে অশান্তি চরমে উঠেছিল।এমনকি মোবাইল ব্যবহার নিয়ে কিছু বললে সে আত্মহত্যার হুমকিও দিত।
শুক্রবার রাতে সে একা শোয়ার জন্য জেদ ধরে।এতে বাড়ির লোকেরা অঘটনের আশঙ্কা করে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে।রাতেই তারা বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশের সাহায্য চায়।পুলিশ এসে শুভদীপের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি আটক করে।
পুলিশের জেরায় শুভদীপ জানায়, সে ব্লু হোয়েল গেম এ আসক্ত। এদিন হাতে রং দিয়ে নীল তিমির ছবি এঁকে পাঠাতে বলা হয়েছিল ওই গেমটির এডমিনদের পক্ষ থেকে। তাই সে রাতে একা থাকার বায়না ধরেছিল। 
শুভদীপের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল নয়। তার বাবা শুভ্র আলি একটি ছোট কারখানায় কাজ করতেন।কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।তার মা সুপ্রিয়াদেবী শহরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে আয়ার কাজ করেন। সুপ্রিয়াদেবীর বক্তব্য,স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলেকে নিয়ে অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল দুই ছেলেকে শিক্ষিত করে তোলা যাতে তারা নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।মোবাইল আর নীল তিমি তা সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে। নীল তিমির নামক অনলাইন খেলার জন্য তিনি ছেলেকেই হারাতে বসেছিলেন। 
বাঁকুড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে,শুভদীপকে কি ভাবে আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা খতিয়ে দেখা ও তার নিরাপত্তার কথা ভেবেই মোবাইলটি আটক করা হয়েছে। 
এদিকে নীল তিমির হানার কথা ছড়িয়ে পড়তেই শহরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের সর্বত্রই এদিন ছিল একই  আলোচনা।
এদিকে শনিবার বাঁকুড়ার  ওন্দা পুলিশের উদ্যোগে স্থানীয় মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শনিবার মোবাইলে নীলতিমির বিষয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রায় ৩০০ ছাত্রছাত্রী এই আলোচনা সভায় অংশ নেয়।মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা খেলাটির মারাত্মক দিকগুলি আলোচনা করেন ছাত্রছাত্রীদের সামনে।ওন্দা থানার এক আধিকারিক জানান, যুব সমাজ নীল তিমিতে প্রভাবিত হয়ে পড়ছে।এতে তারা বিপথে চালিত হচ্ছে।এমনকি তাদের জীবন সংশয় হচ্ছে। তিনি এও বলেন, ঘটনাচক্রে যে সময় এই অনুষ্ঠানের কথা ভাবা হয়েছিল তখন বাঁকুড়াতে এই ধরণের ঘটনা ঘটতে পারে তা কল্পনা করা যাননি।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});