
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ চতুর্থ দফার ভোটের মনোনয়ন পেশের শেষদিনে অর্থাৎ মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দিতে চলেছেন বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনের বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দরজিত সিংহ আলুওয়ালিয়া। একই সাথে এইদিনেই বর্ধমান পূর্ব এবং বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনের কংগ্রেসের দুই প্রার্থী যথাক্রমে সিদ্ধার্থ মজুমদার ও রণজিৎ মুখার্জি মনোনয়ন পত্র জমা করবেন বলে দলীয় সুত্রে জানানো হয়েছে।
এদিকে সোমবার বর্ধমানে এসেই বিজেপির বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনের প্রার্থী সুরিন্দরজিত সিংহ আলুওয়ালিয়া সরাসরি হাজির হন বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। পুজোও দেন সস্ত্রীক। সেখানে তিনি ২টি নারকেল ফাটিয়ে পুজো দেবার পর সেখান থেকে চলে যান বর্ধমানের তিনকোণিয়ার শ্রী গুরুনানক গুরুদুয়ারায়। গুরুদুয়ারায় প্রার্থনা সেরে তিনি হাজির হন বর্ধমান শহরের শুলিপুকুরে। সেখান থেকে প্রথমে কিছুটা হেঁটে রেলি শুরু করলেও কর্মীদের বিশৃঙ্খল চাপে তিনি হঠাতই কর্মীদের থেকে বেড়িয়ে এসে দৌড়াতে শুরু করেন।কিছুটা দৌড়ে যাবার পর বিজেপির জেলা দপ্তরে রাখা ঝাড়খণ্ড থেকে আনা বিশেষ হুড খোলা জিপকে নিয়ে আসা হয়। এরপর জিপে চড়েই তিনি বিসি রোড ধরে মিছিল করে পৌঁছন টাউন হল পর্যন্ত। এদিন প্রার্থীর লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক এই মিছিলে এসে জড়ো হয়।

সাম্প্রতিককালে বিজেপির এতবড় মিছিল দেখে এদিন রীতিমত হতচকিত হয়ে পড়েন বর্ধমানবাসীর সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও। যদিও মিছিলের প্রথম থেকেই বিশৃঙ্খলা ছিল চূড়ান্ত। তবে যেভাবে এদিন মহিলা এবং তরুণ তরুণীরা মিছিলে শুধু পা-ই মেলাননি রীতিমত নাচতে নাচতে বিজেপির পক্ষে শ্লোগানে গলা মিলিয়েছেন তাতে নির্বাচনী পারদ রীতিমত চাঙ্গা হয়ে উঠল সোমবার থেকেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

মিছিল যতই এগিয়েছে ততই আশপাশের সাধারণ মানুষ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার গলায় মালা পরিয়ে দিয়েছেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁরা এগিয়ে এসে নমস্কার, প্রতি নমস্কার করেছেন। কার্জনগেটের কাছে পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি শিশুকেও কোলে তুলে নেন তিনি। সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া জানিয়েছেন, দাদা বৌদি নয়। দিদি ও জামাইবাবু হিসেবেই তিনি এই জেলাবাসির কাছে বেশি পরিচিত। বর্ধমানের জামাই হিসাবে পরিচয় দিতেই গর্ববোধ করেন তিনি। প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুও তাঁকে জামাই বলেই সম্বোধন করতেন। নরেন্দ্রমোদি তাঁকে এই কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থাপক হিসাবে পাঠিয়েছেন। তিনি শুধু যে জিতবেন এটাই নয়, রেকর্ড ভোটেই তিনি জিতবেন। কারণ নির্বাচনকে তিনি লড়াই হিসাবেই দেখেন।
অন্যদিকে, এদিন বিজেপির এই প্রচার মিছিলকে কোনো গুরুত্বই দিতে চাননি তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধমান শহর সহ সভাপতি খোকন দাস। তিনি জানিয়েছেন, বিজেপি যদি ৭ হাজার লোক জড়ো করে থাকে তাহলে বুঝতে হবে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভায় বিজেপিই জিতছে। খোকনবাবু রীতিমত প্রশ্ন ছুঁড়ে জানিয়েছেন, বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভায় ৩০০টি বুথে এজেণ্ট দিতে পারবে তো বিজেপি? নিজের কেন্দ্র থেকে লোক জোগাড় করতে না পেরে লোক দেখাতে ঝাড়খণ্ড থেকে লোক নিয়ে আসা হয়েছে।
