
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,দক্ষিণ দিনাজপুরঃ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জের কৃষক বাজার আজ ভূতুড়ে বাংলো। দিনে রাতে একই ভাবে জ্বলছে কিষাণ মান্ডির আলো। চলছে সরকারি টাকা ও বিদ্যুতের অপচয়। ব্লক প্রশাসনের উদাসীনতায় রাতের অন্ধকারে চলছে সমাজ বিরোধীদের তাণ্ডব। শুনতে একটু অবাক মনে হলেও জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের বরাহারের কিষাণ মান্ডিতে ফুটে উঠেছে সেই চিত্রই। এখানেই শেষ নয়, সঠিক দেখভালের অভাবে গোটা কিষাণ মান্ডি পরিপূর্ণ হয়েছে আগাছাতে। রোদ ঝড় বৃষ্টিতে এলাকার কৃষকরা ভবঘুরের মতো আশাপাশের হাটে ঘাটে ছুটলেও উদ্বোধনের পরও কেন চালু হল না এই কিষাণ মান্ডি তা নিয়ে জোড়াল প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। দিনের আলোতেই বা কীভাবে জ্বলছে বছরের পর বছর এই কিষাণ মান্ডির লাইটগুলো যা নিয়ে বাসিন্দারা কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছেন কুমারগঞ্জ ব্লক প্রশাসনকে। চালু করবার ব্যাপারে বরাবরই শুধু আশ্বাস দিয়েছেন বিডিওরা।
কৃষি প্রধান দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় কৃষকদের সুবিধার্থে এরাজ্যে ক্ষমতা লাভের পর তৃণমূল পরিচালিত সরকার প্রায় প্রতিটি ব্লকেই কিষাণ মান্ডি গড়া ও তা চালুর উদ্যোগ নেয়। শুরু করা হয় কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে সেই নির্মাণ কার্য। ২০১৪ সালে সেই সব কিষাণ মান্ডির কাজ শেষ হবার পর ঢাক ঢোল পিটিয়ে জেলায় জেলায় এসে তার উদ্বোধনও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তার পর থেকেই ঠিক একই ভাবে পরে রয়েছে কুমারগঞ্জের বরাহারের সেই কিষাণ মান্ডি । উদ্বোধন হয়ে গেলেও আজও দেখা মেলেনি কোন কৃষকদের। শুধু তাই নয়, কিষাণ মান্ডিতে দেখ ভালের কোন লোক না থাকায় আবর্জনায় ও আগাছায় পরিপূর্ণ হয়েছে কিষাণ মান্ডিটি। সন্ধ্যা হলেই ভিড় জমছে সমাজ বিরোধীদের। রাতের অন্ধকারে চলছে নানা অসামাজিক কাজ। যে ঘটনায় ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ।
স্থানীয় এক বাসিন্দা গোপেশ সরকার জানান, উদ্বোধন হবার পরেও যদি তা চালু না হয় তবে উদ্বোধন করে কি লাভ। এই কিষাণ মান্ডিতে কৃষকদের কোন লাভ হচ্ছে না। উল্টে কিছু সমাজবিরোধীদের আখাড়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাই।
কুমারগঞ্জ ব্লকের বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্ত্তী বরাবরের মতো আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেছেন, খুব শীঘ্রই তা চালু করা হবে।
