Headlines
Loading...
সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে হেনস্থার ঘটনায় পুলিশকেই দায়ী করল জমিয়তে উলেমা হিন্দ

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে হেনস্থার ঘটনায় পুলিশকেই দায়ী করল জমিয়তে উলেমা হিন্দ


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে তাঁরই বিধানসভা এলাকা মঙ্গলকোটে হেনস্থার ঘটনায় এবার পুলিশকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাল বর্ধমান জমিয়তে উলেমা হিন্দ। সংগঠনের সদস্যরা গোটা ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার একটি স্মারকলিপি জমা দিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপারের কাছে। সংগঠনের অভিযোগ, সেদিন বিক্ষোভকারীদের হটানোর কোনো উদ্যোগই মঙ্গলকোট থানার পুলিশ নেয়নি।
সংগঠনের জেলা সভাপতি তথা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর ভাই মাওলানা ইমদাদুল্লাহ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, একজন মন্ত্রী তাঁর কর্মসূচীতে যাচ্ছেন, সেখানে গোয়েন্দা দপ্তরের কাছে আগাম খবর থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেবার কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি বরং পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উস্কে দিয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের বর্ধমান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইমতিয়াজ আলি জানিয়েছেন,সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী শুধু রাজ্যের মন্ত্রী নন,তিনি রাজ্য জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের সভাপতি এবং এক হাজারের বেশি খারিজী মাদ্রাসার সভাপতি। জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কমিটির নির্দেশেই তাঁকে মন্ত্রীসভায় পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি গোটা ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। ইমতিয়াজ আলির দাবি, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী যদি সত্যিই কোনো অন্যায় করে থাকেন এবং উন্নয়ন না করে থাকেন তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হবে।
প্রসঙ্গত,গত রবিবার দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে নিজের বিধানসভা এলাকা মঙ্গলকোটেই মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী চূড়ান্ত হেনস্থা হন দলীয় কর্মীদের একাংশের কাছে। তাঁর গাড়ি ঘিরে ঝাঁটা, জুতো নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখান হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, মঙ্গলকোটে লাগাতার অশান্তির জন্য সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীই দায়ী। পাশাপাশি এলাকায় একটি খুনের ঘটনায় সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর অপর এক ভাই মাওলানা রহমতুল্লাহ চৌধুরীর নাম জড়িয়ে পড়া নিয়ে এর আগেও রাজ্য জুড়ে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়।
এদিকে রবিবারের ঘটনার জেরে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৮জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এমনকি ওই ঘটনার পর মঙ্গলকোটের আটঘড়া গ্রামের ৩জন যুবকের এখনও কোনো হদিশ নেই বলে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এরই মাঝে রবিবারের ঘটনার জন্য পুলিশকেই দায়ী করে পুলিশ সুপারের কাছে জমিয়তে উলেমা হিন্দ স্মারকলিপি জমা দেওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এব্যাপারে বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রিয়ব্রত রায় জানিয়েছেন,তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
                                                                                                  ছবি - সুরজ প্রসাদ 
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});