
ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান:প্রশাসনিক স্তরে জল্পনা শুরু হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে মালদার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া নিয়ে। তা যদি হয় তবে আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকেই এই সংযোগের সম্ভাবনা রয়েছে। আর এখানেই তৈরী হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা। কারণ নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো জেলাওয়াড়ি সিডব্লুসির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পাশের কোনো জেলার সঙ্গে তাকে যুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে।ইতিমধ্যেই হাওড়া জেলার সিডবলুসির মেয়াদ শেষ হবার পর কলকাতা কমিটির সঙ্গে তাদের যুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে পুরুলিয়া বাদে অন্যান্য জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে পাশের জেলার সাথে সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া চলছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ১৫ জানুয়ারি বর্ধমানের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন থেকে রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী ওয়েলফেয়ার কমিটি তৈরীর ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের আর কোনো এক্তিয়ার থাকছে না। সেক্ষেত্রে জেলাওয়াড়ি কমিটিতে কারা থাকবেন তা রাজ্য সরকারই ঠিক করবে।
যদিও জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) রত্নেশ্বর রায় জানিয়েছেন, এব্যাপারে এখনও কোনো সরকারী নির্দেশিকা তিনি পাননি। তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই যে সব জেলায় সিডব্লুসির মেয়াদ শেষ হয়েছে তাদের পুরুলিয়া বাদে অন্য জেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। পুরুলিয়ায় একটি মামলা থাকায় সেখানে কোনো কমিটি গঠন হয়নি। সেক্ষেত্রে চরম সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বর্ধমানকে মালদা জেলার সিডব্লুসির সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়ার।
জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের সঙ্গে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির মেয়াদ ফুরানো নিয়ে আলোচনা হলেও বর্ধমান সিডব্লুসিকে যে মালদার সঙ্গে যুক্ত করা হবেই তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি। তবে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্দেশিকা পাঠানোর কথা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে মালদার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সঙ্গে বর্ধমানকে যুক্ত করা হলে বড়সড় প্রশাসনিক সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনেরই একাংশ। কারণ নিয়মানুযায়ী কোনো শিশুকে উদ্ধারের পর তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিডবলুসির সামনে পেশ করতে হয়। সেক্ষেত্রে মালদা সিডব্লুসি-র অধীনে বর্ধমানকে নিয়ে আসা হলে কোনো শিশুকে উদ্ধারের পর কিভাবে সিডব্লুসির সামনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেশ করা যাবে তা নিয়েই দেখা দিয়েছে সমস্যা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,বর্ধমানে প্রতিবছর গড়ে ২০০-২৫০ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক সময় রাতেও এই সব শিশুদের উদ্ধার করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে তাদের বর্ধমানের কোনো হোমে রাখা ছাড়া অন্য উপায় নেই। এ ব্যাপারে তাই সরকারি নির্দেশিকার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
