Headlines
Loading...
বর্ধমানে একই স্কুল ক্যাম্পাসে তিনটি স্কুল,তদন্তে নামল জেলা প্রশাসন

বর্ধমানে একই স্কুল ক্যাম্পাসে তিনটি স্কুল,তদন্তে নামল জেলা প্রশাসন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান:বছরের পর বছর ধরেই প্রশাসনের নাকের ডগায় বর্ধমান শহরে একই ক্যাম্পাসে চলছে ৩টি প্রাথমিক এবং একটি হাইস্কুল। সরকারী নির্দেশ অমান্য করেই বর্ধমান সিএমএস হাইস্কুল ক্যাম্পাসে একই নামে বৈধ ও অবৈধ চারটি স্কুল চলার ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসলো প্রশাসন। জোরদার তদন্ত শুরু করল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) প্রবীর চট্টোপাধ্যায়কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্ধমান প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতি অচিন্ত্য চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সোমবার থেকেই জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্ধমান শহরের বিসিরোডে অবস্থিত এই সিএমএস হাইস্কুলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানান অভিযোগ চলছে। এর আগেও জেলা ও রাজ্য সরকারের কাছে এলাকার মানুষ, স্কুলের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দফায় দফায় অভিযোগও জানানো হয়েছে। অভিযোগ,বর্ধমান শহরের সিএমএস স্কুলের মধ্যেই সরকারী প্রাথমিক স্কুলকে বঞ্চিত করে এবং অবহেলার মধ্যে ঠেলে দিয়ে দিনের পর দিন একই স্কুলের নাম ও লোগো ব্যবহার করে অবৈধভাবে বেসরকারী স্কুল চালানো হচ্ছে।
সম্প্রতি এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শিশু সুরক্ষা কমিশনের দুই সদস্য সৌমিত্র রায় এবং সাকিলা সুলতানা শামস্ স্কুল পরিদর্শন করেন। মিড ডে মিল প্রকল্পে পড়ুয়াদের খাওয়ার জন্য বসার জায়গার অসুবিধার বিষয়, ,বর্ষায় পড়ুয়ারা ঘরবন্দি হয়ে যায় -সেই অসুবিধা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সকালের স্কুল চলার সময় প্রাথমিক বিভাগের ছাত্রদের খাঁচায় বন্দির মত অবস্থায় রাখা প্রভৃতি সমস্যা শিশু সুরক্ষা কমিশনের সামনে তুলে ধরেন অভিভাবক থেকে শিক্ষকরাও।
উল্লেখ্য, এই সমস্ত গাফিলতির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্তরে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ইতিমধ্যে একজন অভিভাবক আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন। সেই মামলা বিচারাধীন।
জানা গেছে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তর এক নির্দেশিকা জারি করেছে যে একই ক্যাম্পাসে দুটি স্কুল থাকতে পারবে না। অথচ কিভাবে বর্ধমানের ৩২নং ওয়ার্ডের এই সিএমএস হাইস্কুলের নাম,লোগো ও এলাকাকে ব্যবহার করে ৪টি স্কুল চলছে তা নিয়ে রীতিমত বিস্মিত খোদ প্রশাসনের একাংশও। এমনকি সরকারী কাগজেও দেখা গেছে, বিসিরোডের এই সিএমএস হাইস্কুলের মধ্যেই রয়েছে ৪টি স্কুল। সিএমএস হাইস্কুল (দিবা), সিএমএস হাইস্কুল (প্রাতঃকালীন), সিএমএস প্রাথমিক স্কুল (দিবা) এবং সিএমএস কেজি বিভাগ। অথচ সরকারীভাবে দুটি স্কুল চলার কথা এখানে। সেই দুটি সিএমএস হাইস্কুল (দিবা) ও সিএমএস স্কুল (প্রাতঃ)। বাকি দুটি স্কুলের মধ্যে সিএমএস হাইস্কুল (প্রাতঃ) নামে কোনো স্কুলই বাস্তবে নেই। অথচ খাতায় কলমে তা দেখানো রয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, সরকারী একটি স্কুল চত্বরে কিভাবে একই নামে সম্পূর্ণ বেসরকারী একটি অ-অনুমোদিত স্কুল চলছে?
শুধু এটাই নয়, এই কেজি বিভাগের যিনি প্রধান শিক্ষক পুলকেশ চৌধুরী তিনি আবার বর্ধমান সিএমএস হাইস্কুলের (মর্নিং) এরও প্রধান শিক্ষক। প্রশ্ন উঠেছে একজন ব্যক্তি কি করে দুটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হতে পারেন? এমনকি সিএমএস হাইস্কুল মর্নিং নামে যে প্রাথমিক স্কুল চলছে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত সেখানে সরকারীভাবে দেখানো হয়েছে ৫৬৯ জন ছাত্র সংখ্যা। অথচ আদপেই এই স্কুলের কোনো অস্তিত্বই নেই বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
আরও মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে এই সিএমএস হাইস্কুল মর্নিং নিয়ে। যেখানে এই স্কুলকে কো-এড হিসাবে দেখানো হয়েছে তাইই নয়, এই স্কুলকে ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অফ এডুকেশনাল প্ল্যানিং এণ্ড এডমিনিষ্ট্রেশান বা সংক্ষেপে নিউপাতেও স্কুল রিপোর্ট কার্ডেও দেখানো হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে স্কুলের একশ্রেণীর শিক্ষক,অশিক্ষক এবং পরিচালন সমিতির একাংশ এই অবৈধ কাজ জেনে বুঝেই করে চলেছে বলে অভিযোগ। এমনকি সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা তছরূপেরও অভিযোগ আনছেন স্কুলেরই একশ্রেণীর শিক্ষক,অভিভাবকেরা।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান অচিন্ত্য চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের নির্দেশ সোমবার থেকেই ওই স্কুলের বিষয়ে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। সোমবারই স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) তদন্ত শুরু করেছে। বিভিন্ন পর্যায়ে এই তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});