Headlines
Loading...
ফেব্রুয়ারীতেই নবরূপে খুলতে চলেছে বর্ধমানের রমনাবাগানের চিড়িয়াখানা,বন্ধ হচ্ছে লিংক রোড।

ফেব্রুয়ারীতেই নবরূপে খুলতে চলেছে বর্ধমানের রমনাবাগানের চিড়িয়াখানা,বন্ধ হচ্ছে লিংক রোড।


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমানের রমনাবাগান মিনি জু -কে নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যেই নতুন অতিথিদের নিয়ে দর্শকদের সামনে খুলে দেওয়া হবে এই মিনি জু। একই সাথে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বাবুরবাগের দিক থেকে রমনা বাগানের ভিতর দিয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে আসা লিংক রোডটিকে। মূলতঃ পশুপক্ষীদের অসুবিধা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত বলে বনাধিকারিক দেবাশীষ মিশ্র জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন,সম্পূর্ণ নতুন ভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এই জু কে।

শুরুতেই দর্শকদের মুখোমুখি হতে হবে একজোড়া লেপার্ডের। একটু এগিয়ে গেলেই অপেক্ষা করবে একজোড়া শ্লথ বিয়ার(ভলুক )। এরপরে থাকছে প্রায় ৩০টি চিতল হরিণের এনক্লোজার।থাকছে শাম্বার হরিণও। নতুন করে পুকুর সংস্কার করে তৈরী করা হয়েছে ক্রোকোডাইল পন্ড। দর্শকরা এখানে মুখোমুখি হবেন ঘড়িয়ালের। ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত বোধ করলে দর্শকদের বিশ্রাম নেবার জন্য থাকছে সেন্ট্রাল পার্ক, ফুড কোর্ট, কাফেটেরিয়াও। কিছুটা দূরে থাকছে বিভিন্ন পশু পাখিদের সম্পর্কে জানার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও। নতুন করে তৈরী করা পাখিদের খাঁচায় (পিজিয়ন ট্রি) থাকছে ময়ূর, সারসের,পেলিকান এর মত বড় পাখি। থাকছে রেসার্স মাঙ্কি, লেঙ্গুর, বাঁদর, খরগোশ, সজারুও। এমনকি এতদিন একাকীত্বে থাকা ৩৫ বছর বয়সী কুমীরের সঙ্গীও জুটতে চলেছে। আনা হচ্ছে আরও একটি কুমীর।

 
বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে ,প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে প্রথম ধাপে দর্শক মনোরঞ্জনের জন্য এভাবেই আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বর্ধমানের এই দর্শনীয় স্থানকে। 
উল্লেখ্য,সম্প্রতি জু-এর কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে আসেন জু অথরিটির অধিকর্তা বিনয় যাদব। কাকতালীয়ভাবেই পূর্ব মেদিনীপুর যাবার পথে রমনাবাগানে ঝটিকা সফরে আসেন রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ। যদিও সময়াভাবে তিনি জু বা রমনাবাগান ঘুরে দেখা সময় পাননি। কিছুক্ষণ জেলাবনাধিকারিক দেবাশীষ মিশ্রের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই ফিরে যান। অন্যদিকে, বিনয় কুমার যাদব গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন। রমনাবাগান সূত্রে জানা গেছে, বর্ধমানের এই জু-কে ঢেলে সাজাতে ইতিমধ্যেই ৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। জু অধিকর্তা এসে আরও ২০ লক্ষ টাকা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। পাশাপাশি অতি দ্রুততার সাথে প্রস্তাবিত কাজ শেষ করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা বনাধিকারিক দেবাশীষ মিশ্র জানিয়েছেন, বর্ধমানের এই রমনাবাগানের জু-এলাকাকে ৭ফুট উঁচু প্রাচীর দিয়ে এবং তার ওপর ৩ ফুটের জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে। বাইরের কোলাহল বা গাড়ির আওয়াজ যাতে পশু পাখিদের বিরক্তির কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেজন্য বাবুরবাগ থেকে রমনাবাগানের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাকে সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কেবলমাত্র বনকর্মীরাই সে পথে যাতায়াত করতে পারবেন।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});